বৃষ্টি–জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ বন্যা দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ কাটছে না বন্যা দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের। কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করায় স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। পানিতে ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত জমির ফসল। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অনেক এলাকা। এদিকে, থেমে থেমে ভারি বৃষ্টির কারণে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি কাটেনি এখনো।

রাতভর বৃষ্টিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা। জলাদ্ধতায় বেড়েছে ভোগান্তি।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে নগরীর কাতালগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, বাকলিয়া, শোলকবহর এলাকার অলি-গলিতে পানি জমে যায়। জেলার ৭ উপজলায় বন্য পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। এখনো ডুবে আছে গ্রামের পর গ্রাম। 

কক্সবাজারের রামুর মিঠাছড়ি, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নেমেছে বানের পানি। তবে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিচু এলাকা এখনও তলিয়ে। ক্ষয়ক্ষতির তুলনায পর্যাপ্ত প্রাপ্ত ত্রাণ সহায়তা মিলছে না বলে অভিযোগ করেন বানভাসী মানুষ।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে পানি নামায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ঘরে ফিরে গেছেন অনেকেই। এদিকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হচ্ছে। অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে গ্রামীণ সড়ক। তলিয়ে গেছে আউশ ও আমনের বীজতলা।

থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিতে রাঙামাটি জেলাজুড়ে পাহাড় ধসের ঝুঁকি কাটেনি। এ কারণে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে পারছেন না দুর্গত এলাকার লোকজন।

পাহাড়ধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের  যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

হবিগঞ্জে বন্যায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মৎস্য খামার ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, মাছ ভেসে যাওয়ায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মৌলভীবাজারে বানের পানি কমতে শুরু করলেও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা কাটেনি। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণায় বাড়ছে নদীর পানি।