বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে নিখোঁজ হওয়া কিশোরী উদ্ধার হয়নি ৩ দিনেও। স্বজনদের অভিযোগ, হেফাজতে থাকার পরও যোগসাজশে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে তাকে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বান্ধবীর জন্মদিনে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় গৌরনদীর কান্ডপাশা গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। এ ঘটনায় মামলার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আসামি অমি ঋষির বাড়ি, মাদারীপুর থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে। পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেলের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রাখা হয় ওই স্কুলছাত্রীকে।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বজনরা বরিশাল মেডিকেলে গেলে জানতে পারেন, ওই কিশোরী ওসিসিতে নেই। স্বজনদের অভিযোগ, যোগসাজশে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ওই কিশোরীকে।
ওই কিশোরীর এক স্বজন বলেন, ‘সরকারি হেফাজত থেকে একজন কীভাবে পালিয়ে যায়। আমরা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তাদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। আমি থাকতে চেয়েছি মেয়ের সাথে আমাকে থাকতে দেওয়া হয়নি।’
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমরা ভিক্টিমকে উদ্ধারের জন্য তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। এ বিষয়ে আদালতকে আমরা এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেছি।’
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এটা আসলেই দুঃখজনক। কিন্তু কেন গেলো, কীভাবে গেলো? ইতিপূর্বে এরকম ঘটনা ঘটেনি। আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। সেই তদন্তের আলোকে যদি কেউ দোষি সাব্যস্ত হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ওসিসি থেকে কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।