৪ বছর পর ‘অপহৃত’ আব্দুল মান্নানকে জীবিত উদ্ধার

চার বছর আগে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে—এমন ধারণা ছিল পরিবারের। তবে দীর্ঘ চার বছর পর পটুয়াখালী ডিবি পুলিশের তৎপরতায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জীবিত উদ্ধার হয়েছেন সেই আব্দুল মান্নান প্যাদা।

৭০ বছর বয়সী আব্দুল মান্নান প্যাদা তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-সংলগ্ন এলাকায় হোটেল ব্যবসা করতেন। তার হোটেলে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মানুষ মাসিক চুক্তিতে খাবার খেতেন। একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন মুদি দোকান থেকে লাখ লাখ টাকার খাদ্যপণ্য বাকিতে কেনেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব পণ্যের টাকা পরিশোধ না করে সন্তানের পরামর্শে এবং হোটেল ম্যানেজারের তত্ত্বাবধানে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

অন্যদিকে, বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও তার ছেলে বাবাকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে মুদি দোকানদারদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ওই ব্যবসায়ীদের মামলার আসামি হয়ে হয়রানি ও আইনি জটিলতায় পড়তে হয়।

অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী ডিবি পুলিশের তৎপরতায় আত্মগোপনে থাকা আব্দুল মান্নান প্যাদাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

আব্দুল মান্নান প্যাদা পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

চার বছর ধরে চলা অপহরণ ও হত্যার রহস্যের অবসান হয়েছে তাকে জীবিত উদ্ধারের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে মামলার আড়ালে থাকা ব্যবসায়িক দেনা ও আত্মগোপনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, আব্দুল মান্নান প্যাদাকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে করা মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার আত্মগোপনের কারণ, অপহরণ মামলার প্রকৃত ঘটনা এবং মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছিল, তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।