মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর জানাজা নামায পিরোজপুরে শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে সাঈদী ফাউন্ডেশনে তাঁর জানাজা হয়।
এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মরদেহ পিরোজপুরের সাঈদী ফাউন্ডেশনে এসে পৌঁছালে কয়েক হাজার জনতা সেখানে উপস্থিত হয়। দির্ঘ তিন ঘণ্টা জানাজা নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে থেকে সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদীসহ তাঁর পরিবারের জন্য অপেক্ষা করে মুসল্লিরা।
এরপরে দুপুর দেড়টার দিকে মাসুদ সাঈদী ও তাঁর পরিবারের লোকজন আসলে বিপুল সংখ্যাক লোকের অংশগ্রহণে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা নামায শেষে কয়েক হাজার মুসল্লি ও জনতা সাঈদীদে এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমান। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মেঝপুত্র শামীম সাঈদী পিরোজপুরে আসার পরে সাঈদী ফাউন্ডেশনে পারিবারিক কবরস্থানে বড় ছেলের পাশে সাইদীর মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর জানাজা ও মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিবিজি, আর্ম পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। পিরোজপুর জেলায় সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ১৯৯৬ সালে ও ২০০১ সালে জামাতের মনোনয়ন নিয়ে পিরোজপুর-০১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। ২ আগষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে থাকা সাঈদী অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে মৃত্যু হয় সাঈদীর।