চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রলীগের হামলায় এক কোটা বিরোধী শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত মো. মাহবুবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ হামলা হয়।
এর আগে পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শহর অভিমুখে যেতে চাইলে বেলা আড়াইটার শাটল ট্রেন আটকে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছিনিয়ে নেওয়া হয় ট্রেনের চাবি। ফলে বন্ধ হয়ে পড়ে শাটল ট্রেন চলাচল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসময় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী খান তালাত মাহমুদ রাফিকে ট্রেন থেকে তুলে নিয়ে প্রক্টর অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ। এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিস ও শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়।
পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রাফি এখনও প্রক্টর অফিসেই আছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ওয়াহিদুল আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব পক্ষের সাথেই আলোচনা করছেন তারা। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ শান্ত আছে।
এদিকে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিকেল সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, সকল চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটার পক্ষে এবং বিপক্ষের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অন্তত দেড়শ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
পরে বিকেলে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অধিকাংশের মাথা থেকেই রক্ত ঝরতে দেখা গেছে।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইডেন কলেজের ভেতরে ছাত্রলীগের হামলায় ৬ ছাত্রী আহত হয়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, জিয়া হল, শহীদুল্লাহ হল ও বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা বিরোধী শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালায়। এতে আন্দোলনকারীরা আহত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেলে আহত অবস্থায় অন্তত ১০০ শিক্ষার্থী জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নেন।
এর আগে, কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় জড়ো হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে প্রথম মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসে। পরে মিছিল নিয়ে আসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এরপর দলে দলে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা কোটা সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তাদের দাবি, সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডের কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। ফলে সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল হয়ে যায়।
পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এতে সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে।
বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে। গত ১১ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ দেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ঝুলন্ত কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা মানবেন না।