ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির জনজীবন। সেই সাথে পাহাড়ধস ও রাস্তা তলিয়ে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম এবং পাহাড়ি বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাজেকে আটকা পড়েছে ৫ শতাধিক পর্যটক। এছাড়া বৃষ্টির কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তিন পার্বত্য জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়।
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শহরের আর্মি পাড়া, লাঙ্গি পাড়া, ইসলামপুর, কাসেম পাড়া, বালাঘাটা ও কালাঘাটাসহ একাধিক এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র। পর্যটক ও জনসাধারণের নিরাপত্তায় ১০ জুলাই পর্যন্ত সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালার কবাখালি অংশ ও মেরুং ইউনিয়ন হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়ক তলিয়েছে। এতে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আটকা পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, ও কলেজ রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।’
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ। ইতোমধ্যে শহরের ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে দুর্গত মানুষ।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একরামুল হক ভূইয়া বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা উপজেলায় দুর্যোগ টিম গঠন করেছি। জনপ্রতিনিধিদেরও নিজ নিজ এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস টিম এবং রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোকে খাবার ও সুপেয় পানি দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, কক্সবাজারের বাঁখখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত এক হাজার মানুষ।