১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ নেই কুমিল্লা সদর হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচ তলার দুটি ওয়ার্ডে। সোমবার সকালে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পর মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে এরপর থেকেই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে এই দুটি ওয়ার্ড। একদিকে জমাটবদ্ধ পানির অস্বস্তি, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রোগীরা।
দুই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বৈদ্যুতিক লাইন শর্ট সার্কিট হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন সচ্ছল করা যাচ্ছে না বলে ইলেকট্রিশিয়ান জানিয়েছে।
মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স মীনাক্ষী রানী জানান, সোমবার সকালে বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা তৈরি হলে সেখানে আর বিদ্যুৎ আসেনি। মশা ও পোকামাকড়ের ভয়ে তিনজন রোগী না বলেই বাড়ি চলে গেছে।
মেডিসিন ও সার্জারি মহিলা ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত হোসনেয়ারা বেগম জানান, এই ওয়ার্ড থেকে আট জন রোগী আজকে বাড়ি চলে গেছে। একে জলাবদ্ধতা তার ওপরে বিদ্যুৎ নেই। অবর্ণনীয় কষ্টের কারণে মানুষ থাকতে চাচ্ছে না।
সোমবার সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচ তলায় মেডিসিন মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে এক রোগীর হাতে ইনজেকশন দিচ্ছেন নার্স। পাশের একটি বেডে সিজারিয়ান মাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন এক কিশোরী। পাশের ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে মোমবাতি জ্বালিয়ে স্বামীকে ভাত খাওয়াচ্ছেন এক নারী। পাশে মাথার কাছেই মশার কয়েল জ্বালিয়ে হাতপাখা নাড়ছেন আরেকজন।
সোমবার ভোর ছয়টা থেকেই এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কিডনি রোগে আক্রান্ত মাফিয়া বেগমের জামাতা রিয়াজ হোসেন। রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘আমার শাশুড়ি কোনোভাবেই পাখা ছাড়া থাকতে পারে না। সারাক্ষণ শুধু হাঁসফাঁস করছে। অথচ ১২ ঘণ্টার বেশি হয়েছে হাসপাতালে বিদ্যুৎ নাই। একটি সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ নাই এটি হতে পারে না।’
অস্ত্রোপচার হয়েছে মাঝে আক্তারের। চিকিৎসকের পরামর্শ শুকনো জায়গায় রাখা, কিন্তু এমন জলাবদ্ধতায় আর বিদ্যুৎহীনতায় প্রতিনিয়ত ঘেমে উঠে তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানাবেন তার মেয়ে নিলুফা আক্তার। তার অভিযোগ, পানি ওঠার পর থেকে ডাক্তার–নার্সরাও আসে নাই ঠিকমতো। তার ওপর বিদ্যুৎ নেই, আলো নেই, বাতাস নেই। সামর্থ্য থাকলে আমি আমার মাকে অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতাম।
কুমিল্লা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুল করিম ভূঁইয়া সোমবার রাত আটটায় বলেন, ‘আমাদের ইলেক্ট্রিশিয়ানরা কাজ করছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ দিতে পারব।’