চুরি যাওয়া গরু মিলল বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে চুরি যাওয়া একটি গরু বিএনপির এক নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গরুটি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওই নেতার বাড়ির সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং গরুটি হেফাজতে নেয়।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর গোয়ালঘর থেকে গরুটির সন্ধান পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা এলাকা থেকে এক দিনমজুরের একটি গরু চুরি হয়। এরপর গরুটির মালিকের স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে চুরি যাওয়া গরুটি পাওয়া গেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়ির সামনে লোকজন জড়ো হন।

পরে খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং গরুটি হেফাজতে নেয়।

তবে গরুটি কীভাবে দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গরু চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন জানান, ভাটরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর নলচরা ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক তাজু তিন দিন আগে ভোরে তার গোয়ালঘরে গরুটি বেঁধে রেখে যান। তাকে ফাঁসাতেই এমনটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপি। মঙ্গলবার দেওয়া ওই নোটিসে তিন দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিসে দলীয় বিধিবিধান লঙ্ঘন করে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন ১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মো. তাজুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাজুল ইসলামের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম মজুমদার জানান, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। গরুটি কীভাবে দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে এসেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। দলের নিয়মনীতি অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গরুটি কীভাবে ওই গোয়ালঘরে গেল এবং এর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’