আকস্মিক বন্যার দায় কী চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নতুন রেলপথের? 

চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যার জন্য দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পকে দুষছেন চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত ব্রিজ-কালভার্ট না থাকায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রেল বিভাগ বলছে, অত্যধিক পানির চাপেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে।

বান্দরবানের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল আর বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আর লোহাগাড়া উপজেলা। ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু পানিতে ডুবে যায় অনেক এলাকা। তবে কেন এই পরিস্থিতি তা নিয়ে আছে ভিন্ন আলোচনা। 

স্থানীয়রা বলছেন, পানি নামার পথের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে নির্মিত রেলপথটি বড় বাঁধের মতো বাধা তৈরি করেছে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রিজ-কালভার্ট না থাকায় পানি যেতে পারছে না, তাই বন্যা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

কক্সবাজারের সঙ্গে যাতায়াতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বানানো হচ্ছে এই রেললাইন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির জন্য এলাকাবাসীর কাছে এই রেল লাইনের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। 

এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘দু-চার কিলোমিটারের মধ্যে চার-পাঁচটা কালভার্ট হলেও আমরা বাঁচতে পারতাম। এখন আমাদের ধান দেখেন, গরু দেখেন ঘর দেখেন, পানিতে কিছু নাই। কিছু নাই বলতে গেলে এখন।’ 

তবে রেল বিভাগ বলছে, নতুন রেলপথ তৈরির আগে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে। গেলো একশো বছরের বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের তথ্য যাচাই করেই তৈরি হয়েছে পুরো নকশা। এরই মধ্যে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৩৯টি বড় সেতু এবং ১৪৫টি ছোট সেতু ও কালভার্ট বানানো হয়েছে। 

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি যদি আরও একশটি কালভার্টও দেই এপাশের পানি না নামলে তো ওপাশের পানিও নামবে না। আমার রেললাইন তো ভেসে উঠেছে তাহলে এখন পানি নামছে না কেন? আমার কালভার্টগুলো দিয়ে পানি যাচ্ছে। এদিকের পানিও তো যেতে হবে। সাগরের পানির লেভেল এখন উঁচু, সাগরের পানি না নামলে তো এদিকের পানিও নামবে না।’
 
সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত এই রেলপথ দিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেন চলাচল শুরুর কথা রয়েছে।