কেএফসি-ডোমিনোস পিৎজা ও সিক্রেট রেসিপিকে জরিমানা

অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের কেএফসি, ডোমিনোস পিৎজা ও সিক্রেট রেসিপিকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ ছাড়া চায়না রেস্টুরেন্টকেও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এসব রেস্তোরাঁকে জরিমানা করে।

এ বিষয়ে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলাম জানান, অভিযানে দেখা যায় বেশিরভাগ রেস্তোরাঁরই রাজউকের অনুমতি নেই। জরিমানার পাশাপাশি ভবন ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের সতর্ক করা হচ্ছে। এ ছাড়া ত্রুটি সারাতে এক মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর আবারও অভিযান চালানো হবে। এ সময় সংশোধনী পাওয়া না গেলে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলকায় রাজউকের তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ আগুনে ৪৬ জন নিহত হন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরো ভবনে অসংখ্য গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। এমনকি সিঁড়িতেও মজুত ছিল সিলিন্ডার। ফলে ভবনটিতে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। 

ভবনটিতে কাচ্চি ভাই, পিৎজা ইন, স্ট্রিট ওভেন, খানাসসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ছিল। এ ছাড়া ইলিয়েন, ক্লোজেস্ট ক্লাউডসহ বেশকিছু জনপ্রিয় পোশাকের দোকানও ছিল। এ ঘটনার পর আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ম্যানেজার হামিমুল হক বিপুলসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, কাচ্চি ভাইয়ের ম্যানেজার জিসান, চুমুকের মালিক আনোয়ারুল হক ও শাকিল আহমেদ রিমন।

এদিকে বেইলি রোডের ঘটনার পর রোববার থেকে কঠোরভাবে কাজ শুরু করে রাজউক। রোববার সকাল থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি, বেইলি রোড, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নকশা ও নীতি লঙ্ঘনকারী বেশকিছু ভবন চিহ্নিত করে জরিমানা, সিলগালা করে দেয়।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বেইলি রোডের নবাবী ভোজ রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় সংস্থাটি। প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিতে তালা দেওয়া হয়। একই কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় সুলতান ডাইন।

পরে সুইস বেকারি এবং ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারে অভিযান চলে। অগ্নি নিরাপত্তা সনদ নবায়ন না থাকায় সুইস বেকারি এবং বেইলি ডেইলি ফুডকোর্টকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অবশ্য মালিকপক্ষের দাবি, লাইসেন্স নবায়নের জন্য ফায়ার সার্ভিসে আবেদন করা হয়েছে।