রাজধানীর বেইলি রোডের সুলতান ডাইন এবং নবাবী ভোজ রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে রাজউক। আর খিলগাঁওয়ে সিলগালা করা হয়েছে স্কাইভিউ টাওয়ার, যার ৫ তলাতেই ছিলো রেস্টুরেন্ট। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাগজ না থাকায় এসব ব্যবস্থা নেয় রাজউক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।এছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় তিন লাখ টাকা।
রাজধানীর বেইলি রোডের কোজি কটেজে আগুনের ঘটনার পর মাঠে নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশন। আলাদাভাবে অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।
অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মঙ্গলবার সকালে বেইলি রোডের নবাবী ভোজ রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় রাজউক। প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিতে তালা দেওয়া হয়। একই কারণে বন্ধ করে দেয়া হয় সুলতান ডাইন।
পরে সুইস বেকারি এবং ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারে অভিযান চলে। অগ্নি নিরাপত্তা সনদ নবায়ন না থাকায় সুইস বেকারি এবং বেইলি ডেইলি ফুডকোর্টকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অবশ্য মালিকপক্ষের দাবি, লাইসেন্স নবায়নের জন্য ফায়ার সার্ভিসে আবেদন করা হয়েছে।
মালিকদের একজন বলেন, ‘আজকে এ পর্যন্ত আপনারা দেখেছেন আমাদের আবেদন করা ছিল ফায়ারের কাছে। তারা আমাদের কোনো জবাবও দেয়নি, এমনকি এটা নবায়ণও করেনি। আমরা বলার পরেও তারা আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি বা আমাদের কাছে আসেনি।’
রাজউক বলছে, ঢাকাকে নিরাপদ করতেই তাদের এই উদ্যোগ। অনিয়ম পেলেই নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘সুলতান ডাইন আর বাকি কিছু আছে ছোট ছোট স্টল টাইপের। সিলিন্ডার রয়েছে, এ কারণে আমরা এগুলো সিলগালা করেছি। সুলতান ডাইনেও যতটুকু আমরা শুনেছি সিলিন্ডার আছে তবে কোনো লোকজন পাওয়া যায়নি। নবাবী ভোজেও একই কথা। এবং সেটা একেবারে একটি ভবনের নিচে, বেজমেন্টে। এটার অনুমোদন রাজউকের নাই। এ কারণে এটাও আমরা সিলগালা করেছি।’
এদিকে, একই সময়ে খিলগাঁওয়ে চলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অভিযান। ঝুঁকি বিবেচনায় স্কাই ভিউ টাওয়ার সিলগালা করা হয়। অভিযানের খবরে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে গা ঢাকা দেন মালিকরা।
দক্ষিণ সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস এই ঝুঁকিপূর্ন ভবনগুলোর তালিকা করছে। আমার জানা মতে প্রায় ২ হাজার ২০০ এর মতো তালিকা তাদের কাছে আছে ঝুঁকিপূর্ন যে ভবনগুলো আছে এগুলোর সংশোধন দরকার। এগুলোর মধ্যে ২ শতাংশের মতো নিয়ম মেনে ব্যবসাটা করছে। আর বাকিগুলোর অনেক ত্রুটি আছে।’
অভিযানের সময় সিটি কপোরেশনের দলে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও ছিলেন।
এদিকে চলমান এ অভিযানে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। এ সময় রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠনেরও দাবি জানান তিনি।
ইমরান হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অভিযানের নামে ঢাকা শহরে তাণ্ডব চলছে। এখন রাজধানীর সকল রেস্তোরাঁয় সিটি করপোরেশন, রাজউক বা সরকারের আরো অনেক সংস্থা হয়রানি করছে। এখন যে পরিমাণ হয়রানি আমাদের করা হচ্ছে, এটা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না।’
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত কয়েকদিনে রাজধানীতে চলমান অভিযানে ৪২টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ আগুনে ৪৬ জন নিহত হন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরো ভবনে অসংখ্য গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। এমনকি সিঁড়িতেও মজুত ছিল সিলিন্ডার। ফলে ভবনটিতে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।
ভবনটিতে কাচ্চি ভাই, পিৎজা ইন, স্ট্রিট ওভেন, খানাসসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ছিল। এ ছাড়া ইলিয়েন, ক্লোজেস্ট ক্লাউডসহ বেশকিছু জনপ্রিয় পোশাকের দোকানও ছিল।
এ ঘটনার পর রাজধানীতে যত্রতত্র গড়ে ওঠা রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে পুলিশ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশন।



