একঘরে শিশুর গলাকাটা মরদেহ, অন্যঘরে ঝুলছিলেন মা

ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার একটি বাড়ি থেকে পাঁচ বছরের এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পাশের ঘর থেকে ওই শিশুর মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ওই গৃহবধূকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবার ও চিকিৎসক। 

গতকাল শুক্রবার সাড়ে ৬টার দিকে সদরপুর উপজেলার হাট কৃষ্ণপুর এলাকার পূর্বকান্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা ওই গ্রামের রমজান মুন্সির স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২) ও তাঁর শিশু সন্তান হুজাইফা (৫)।

সুমাইয়া ফরিদপুর সদরের কৈজুরী গ্রামের বাসিন্দা রমজান খানের মেয়ে। রমজান মুন্সী সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দী গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব মুন্সির ছেলে। ২০২০ সালে সুমাইয়ার সঙ্গে রমজানের বিয়ে হয়। হুজাইফা তাদের একমাত্র সন্তান ছিল।

স্থানীয়রা জানান, রমজান মুন্সী দীর্ঘদিন সিংগাপুর ছিলেন। তবে গত দুই বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

রমজানের বাবা মোতালেব মুন্সি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির কাছে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বাড়িতে চিৎকার শুনে তিনি বাড়িতে আসেন। পরে গিয়ে তিনি এ ঘটনা জানতে পারেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল আসিফ ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, সুমাইয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আর শিশুটিকে ঘরের মধ্যেই কম্বলে প্যাঁচানো গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, ঘটনা তদন্ত না করে বোঝা যাচ্ছে না প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।