সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় এক বছর ধরে অন্ধকারে ফরিদপুরের সদরপুরের নারিকেলবাড়িয়া ও চর নাছিরপুর ইউনিয়নের মানুষ। একদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি।
সদরপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন যেন পদ্মা নদীর মাঝে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর ২০২১ সালে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে প্রথমবার সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়। অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে যুক্ত হয় টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, মোটরসহ আধুনিক সরঞ্জাম।
পদ্মার তলদেশ দিয়ে ক্যাবলের মাধ্যমে দুর্গম চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। তবে ক্যাবল কাটা পড়ায় এক বছর ধরে আবারও অন্ধকারে সেখানকার মানুষ।
স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ‘একবার আমরা বিদ্যুৎ পাইছিলাম। তখন আমরা টিভি কিনছি, ফ্রিজ কিনছি, এখন এগুলা পড়ে আছে, তাই এখন আমাদের সমস্যাই।’
এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ফ্যানের বাতাস ছিল। ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারতাম। এখন বিদ্যুৎ না থাকা কষ্ট হচ্ছে।
নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এক বছর পার হয়ে গেছে এখনও আমাদের বিদ্যুৎটা তারা (বিদ্যুৎ অফিস) দিচ্ছে না। তাদের কাছে গেলে তারা আমাদের বলে–কিছুদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ আসবে। কিন্তু এখনও এটির কোনো সমাধান হয়নি।’
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের বারবার জানিয়েও সমাধান মেলেনি, বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ নিয়ে অনেকবার যোগাযোগ করেছি, চিঠি দিয়েছি। পল্লী বিদ্যুতের যারা কর্তৃপক্ষ আছেন, তাদের পত্র মারফতে জানিয়েছি। তারা বারবারই বলেছে যে –তারা এখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করবে।’
পদ্মায় উত্তাল ঢেউ ও পানি বেশি থাকলে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে শীত মৌসুমে ত্রুটি মেরামতের আশ্বাস পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. শাখওয়াত হোসেন বলেন, ‘পদ্মায় উত্তাল ঢেউয়ের কারণে এইখানে টিকে থাকা যাচ্ছে না। ওইদিকে নেভিগেশন রুট, বিভিন্ন ট্রলার চলে তার ছিঁড়ে যায়। এখন অপেক্ষায় আছে কখন পানিটা শুকাবে, ঢেউ কমবে। এই শীতের মৌসুমে আবার কাজটা ধরা হবে।’
নারিকেলবাড়িয়ার ৯টি ও চর নাছিরপুর ইউনিয়নের দুইটিসহ মোট ১১টি ওয়ার্ডে ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। এরমধ্যে ২ হাজার পরিবার পেয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।