কেরানীগঞ্জে আগুন, ‘মানা হয়নি’ বিল্ডিং কোড

কেরানীগঞ্জের জমেলা টাওয়ার নামের একটি ১২ তলা ভবনের নিচতলায় আগুনে লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ করছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, ভবনটি নির্মাণের সময় বিল্ডং কোড মানা হয়নি।

শনিবার ভোরে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বিভিন্ন সিঁড়ি দিয়ে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, ‘ভবন গুলোর অনুমোদন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হবে। বিল্ডিংয়ের কোড মানা হয়নি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘গ্যারেজের জায়গায় গোডাউন করা হয়েছে, আইনের ব্যতয় হয়েছে, তা প্রমাণিত। তদন্ত কমিটির সুপারিশে ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাসিক এবং বানিজ্যিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালা থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভবনটির বেজমেন্টে বেশ কিছু দোকান রয়েছে। 

এ ঘটনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, ঝুট গোডাউন থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন যাতে অন্য ভবনে না ছড়ায় সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ ঘটনায় ওই ভবন থেকে বিভিন্ন সিড়ি দিয়ে ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া এই জায়গায় এখনও কোনো কেমিক্যালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ করে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়াএর আগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়া পর পর ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এরপর পর্যায়ক্রমে কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে মোট ১৪টি ইউনিট আগুন নেভাতে অংশ নেয়। ভবনের নিচতলায় আগুন লাগায় ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভবনে অবস্থানকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ছাড়া এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের কোনো পাওয়া যায়নি।