পুড়ে যাওয়া বাড়ি আর স্টুডিওর ধ্বংসস্তুপে থমকে আছে মানিকগঞ্জের চারুশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের জীবন। এক বছর আগে শেখ হাসিনার ব্যাঙ্গাত্মক মুখাবয়ব তৈরির অভিযোগে পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁর পৈতৃক বাড়ি। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আশ্বাসের পরও মেলেনি কোনো সহায়তা। বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রতিশ্রুতি পেলেও এখনও ফুরায়নি অপেক্ষা। ঘটনার পর তড়িঘড়ি মামলা হলেও এখনও চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ।
২০২৫ সালে পয়লা বৈশাখে চারুকলার শোভাযাত্রা উপলক্ষে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ব্যাঙ্গাত্মক মুখাবয়ব তৈরির অভিযোগে আগুন দেওয়া হয় গড়পাড়ায় মানবেন্দ্র ঘোষের পৈতৃক বাড়িতে। পুড়ে যায় অর্ধশত ভাস্কর্যসহ তাঁর স্টুডিও।
এর পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বাড়িটি। সহায়তার অভাবে হয়নি কোনো সংস্কার। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় স্টুডিও পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকেও পেয়েছিলেন সহায়তার আশ্বাস।
মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমি এ জন্য ক্লান্ত যে আমি গত দেড় বছর যাবৎ কাজ থেকে একেবারেই দূরে রয়েছি, যেহেতু আমি জব করি না। শিল্পকর্ম নিয়েই আমার বাঁচা। মামলার পর আমার একটা আশা ছিল যে, স্টুডিও ঠিকঠাক হলে পরে আমার কাজে একটা গতি ফিরবে।’
এদিকে আগুনের ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে করা মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে। পুলিশ বলছে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই দেওয়া হবে চার্জশিট।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের নির্দিষ্ট টিম থাকে। তাঁরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব যাচাই-বাছাই করে সব বিবেচনা করে চার্জশিট তৈরি করে থাকে। দ্রুতই এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। বলেন, এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে এ মামলার এস্টিমেশনের জন্য সেখানে পাঠিয়েছি। তারা একটি এস্টিমেশন পাঠিয়েছে। আমরা সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’
দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি, ক্ষতিপূরণ এবং শিল্পকর্মে ফিরতে সবার সহযোগিতা চান শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষ।