কুকি-চিন মামলায় জামিন জালিয়াতি ঘটনায় হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসার বরখাস্ত

নিষিদ্ধ সংগঠন কুকি-চিনের জন্য বানানো ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলার আসামি সাহেদুল ইসলামের জামিন জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসার জাকির হোসেন বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। 

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে জানালে তিনি দুই দিনের মধ্যে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিতের নির্দেশ দেন। এরপরই বেঞ্চ অফিসার জাকিরকে বরখাস্ত করে হাইকোর্ট প্রশাসন।

গত ২৯ এপ্রিল জালিয়াতির এই তথ্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এরপর পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের কড়া নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য আসে। সে সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মামলার এজাহার ও তথ্য উপস্থাপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়, যেখানে ‘কুকি-চিন’-সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। সাধারণ মামলা মনে করে আদালত তাঁকে জামিন দেন।

পরবর্তী সময়ে মূল জালিয়াতিটি ঘটে বিচারপতিদের সই করা জামিন আদেশে। আদেশের প্রথম পৃষ্ঠায় থাকা মামলার তথ্য, থানার নাম ও অভিযোগের ধারা মুছে ফেলে সেখানে কেএনএফ-এর পোশাক জব্দের মামলার নম্বর ও ধারা বসানো হয়। এই ভুয়া আদেশ কারাগারে দাখিল করেই অত্যন্ত গোপনে কারামুক্ত হন সাহেদুল।

দীর্ঘ সাত মাস বিষয়টি আড়ালে থাকলেও চলতি সপ্তাহে তা প্রকাশ পায়। একই মামলার অন্য এক আসামি উচ্চ আদালতে জামিন চাইতে এসে সাহেদুল ইসলামের ওই জামিনের আদেশটি নজির হিসেবে উপস্থাপন করেন। তখনই নথিতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের নজরে আসে।

মামলার নথি ‍সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় সাহেদুল ইসলামের মালিকানাধীন রিংভো অ্যাপারেলস-এর গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ বা বম পার্টির সদস্যদের জন্য তৈরি করা ২০ হাজার ৩০০টি বিশেষ সামরিক পোশাক জব্দ করা হয়।

গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি টাকার চুক্তিতে এই পোশাকের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় সাহেদুল ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অপর দুই আসামি হলেন গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দার (৩৯)।