পদ্মা সেতুর রেললাইনের পিলারের নিচে মাটি কাটা, যা জানা গেল

নারায়ণগঞ্জে পদ্মা সেতুর রেললাইনের পিলারের নিচে মাটি কেটে নিয়েছে অজ্ঞাতরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে রেল চলাচল। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়ে যায়। সম্প্রতি রেল সড়কের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে জেলা প্রশাসক মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়। প্রকল্পের যে ঠিকাদার এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও তাদের সুপারিশই এই কাজ হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা কুতুবপুর ইউনিয়নের আলীগঞ্জ সোইলাকইরা এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর ৮৫ নাম্বার পিলারের গোড়া থেকে ৮৯ নাম্বার পর্যন্ত পিলারের মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পিলারের আশপাশের মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়ায় সেতুটি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আজ মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা যায় মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে। ৮৫, ৮৬, ৮৭, ৮৮, ৮৯ নাম্বর পিলারের নিচে থেকে কোথাও প্রায় ৫ ফুট আবার কোথাও ৩ ফুট গভীর মাটি কাটা হয়েছে। সাধারণত একটি উড়াল সেতুর একটি পিলার থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ৩০ মিটার থেকে ৩৫ মিটার (প্রায় ১০০ থেকে ১১৫ ফিট) হয়ে থাকে। ৫টি পিলারের প্রায় ৪৫৯ ফুট বা ১৭৫ মিটার মাটি কাটা হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায় পিলারের নিচ থেকে এক্সিকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এরপর প্রশাসনের নজরে এলে জেলা প্রশাসক মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। 

স্থানীয়রা জানান, সেনাবাহিনী মাটি কেটে নিয়েছে। পিলারের নিচে মাটি কাটায় পিলারগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা যশোর-খুলনার ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন অনেক ভারী, ট্রেন চলাচল করলে ভাইব্রেশন (কম্পন) হয়। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

স্থানীয় জনসাধারণ সরকারের কাছে দাবি জানায়, তারা যেন মাটিকাটা বন্ধ করে দিয়ে ক্ষত স্থানগুলো দ্রুত ভরাটের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। 

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে পদ্মা সেতুর সংযোগ রেল সড়কের পিলারের পাশ থেকে কিছু মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি আমরা জানার পর সংশ্লিষ্ট এসিলেন্ড ও অন্যান্য লোকজন এবং পুলিশসহ টিম পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। প্রকল্পের ঠিকাদার এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও তাদের সুপারিশই এই কাজ হচ্ছিল। তারা আমাদের কাছে কাগজপত্র দেখিয়ে কথাবার্তা বলেছে। তবে আমাদের কাছে যৌক্তিক এবং সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।’ 

স্থানীয় নাগরিকদের প্রত্যাশা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা রেলওয়েসহ অনান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত সেতুটি রক্ষার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।