গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে দুই সন্তানের জননী স্ত্রী সোনিয়ার হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে মধ্যযুগীয় কায়দায় রাতভর নির্যাতন করেছে মাদকসেবী স্বামী নাজমুল শেখ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাতে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে। অভিযুক্ত নাজমুল ওই গ্রামের নওয়াব আলী শেখের ছেলে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সোনিয়া মুন্সীগঞ্জের চরমুসুরিয়া এলাকার লোকমান সরকারের মেয়ে। আজ মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ গৃহবধূ ও তার দুই শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে।
স্থানীয়রা জানান, মাদকসেবী নাজমুল প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রী সোনিয়াকে মারধর করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ঘরে তালাবদ্ধ করে স্ত্রী সোনিয়ার হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে দেন। পরে দুই শিশু সন্তান আবু রায়হান ও আবু মুছার সামনে তাকে রাতভর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে সোনিয়া ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করা হয়। আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার সোনিয়া বলেন, ‘স্বামী নেশা করে বাড়িতে এসে সামান্য বিষয় নিয়েই আমাকে মারধর করতেন। সোমবার রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার দুই শিশু সন্তানের সামনে আমাকে হাত-পা বেঁধে চুল কেটে মারধর করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে কুপিয়ে জখম করেন এবং রাতভর নির্যাতন চালান। আমি এর বিচার চাই।’
আটক নাজমুল পুলিশকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হাত-পা বেঁধে ও চুল কেটে রেখেছি, যাতে সে চলে যেতে না পারে।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, ‘নাজমুল একজন মাদকসেবী। তিনি প্রায়ই মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর করেন।’
সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব বলেন, ‘খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করি এবং অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’