ছুরিকাঘাতে নারীর প্রাণহানি, সাবেক স্বামী আটক

রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি রোডের একটি বাসায় সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত হওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ঝুমুর আক্তারকে (৩৫) মৃত ঘোষণা করেন।

ঝুমুরের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদর থানার তিতকাটা গ্রাম। তার বাবার নাম জাফর হাওলাদার।

হাসপাতালে ঝুমুরের উকিল মা অজিফা আখতার বলেন, ঝুমুর পটুয়াখালী থেকে বেশ কিছুদিন আগে বাড্ডায় আমার বাসায় বেড়াতে আসে। গতকাল সন্ধ্যার দিকে বাজার করে আমরা বাসায় ফিরে আসি। এর কিছুক্ষণ পর ঝুমুরের দ্বিতীয় স্বামী রেজাউল মোবাইল ফোনে ঝুমুরকে অনেক বকাঝকা দেয়। একপর্যায়ে বলে, আমি তোদের বাসার নিচেই আছি সাহস থাকলে নিচে আয়।

তিনি বলেন, রেজাউল যে আমাদেরকে আগে থেকেই ফলো করছিল, তা আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। এতে ঝুমুর ক্ষিপ্ত হয়ে বাসার নিচে গেটের সামনে গেলে রেজাউলের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেজাউল ধারালো ছুরি দিয়ে ঝুমুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

অফিজা আখতার বলেন, এসময় ঝুমুরের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে রেজাউলকে আটক করে বাড্ডা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে রাতে আমি ঝুমুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, ঝুমুরের প্রথম পক্ষের স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয় অনেক বছর আগে। তার প্রথম পক্ষের ঘরে ১২ বছর বয়সী একটি ছেলেও আছে। পরে হোটেল কর্মচারী রেজাউলের সাথে প্রেম করে বিয়ে হয় ঝুমুরের। প্রায় ৩ বছর সংসার করার পর বনিবনা না হওয়ায় ১ বছর আগে সেই সংসারও ভেঙে যায়। এরপর প্রবাসী একজনকে বিয়ে করে ঝুমুর সুখেই ছিলেন। ঝুমুরের তৃতীয় পক্ষের ঘরে একটি কন্যা সন্তানও আছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।