ঢাকার ৬ রুটে ফের চালু একক কোম্পানির বাস

একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস। রাজধানী ও আশপাশের ছয়টি রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে চালু হলো রুট রেশনালাইজেশন। রোববার সকালে মানিক মিয়া এভিনিউতে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হলেও এখনো ঠিক হয়নি চালক-শ্রমিকদের বেতন কাঠামো। এছাড়া ৫০০ পুরনো বাস দিয়েই চালু হলো নতুন ব্যবস্থা। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

রাজধানীর গণপরিবহন ঘিরে নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনার পরও ফেরেনি যথাযথ শৃঙ্খলা। একই সড়কে অসংখ্য বাসের প্রতিযোগিতা আর যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানো-নামানোর বিশৃঙ্খলা চলছেই। যানজটের ভোগান্তিরও নেই শেষ।

সড়কে স্বস্তি ফেরাতে আবারও চালু হলো বাস রুট রেশনালাইজেশন। গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী পর্যন্ত ২৫৩টি নন-এসি বাস চালাবে ভিআইপি পরিবহন।

মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে ১৩৩টি বাস চালাবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। আর ঘাটারচর থেকে ডেমরা এবং ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে বাস চালাবে ফোর স্টার লাইন। আর ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত চালাবে পিএনপি সিটি সার্ভিস। 

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ‘এই রুটের চালকদেরকে বেতন দেওয়া হবে। এতে সড়কে প্রতিযোগিতার হুড়োহুড়ি বন্ধ হবে।’ 

মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘ছয়টি রুটে বাস চলাচলের মধ্য দিয়ে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ৩২টি রুটেই এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি রুটের বাসে আলাদা রং ও নম্বর নির্ধারণ করা হবে।’

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিকদের অসহযোগিতার কারণে এর আগে এ উদ্যোগ সফল হয়নি। এবার সবার সহযোগিতা চাই।’

ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘রাজধানীতে পরিবহন চালাতে হলে রেশনালাইজেশন প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করতে হবে। মালিকপক্ষ বিরোধিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে ১৫৫টি বাস চালানোর পরিকল্পনা সামনে রেখে নামোনো হয়েছিল ৫০টি বাস। তবে বন্ধ করা যায়নি অন্য কোম্পানির বাস চলাচল। নানা সংকটে লোকসানের মুখে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় সে উদ্যোগ।