সীমান্তে হত্যাকাণ্ড থামছে না কিছুতেই। নানা প্রতিশ্রুতির পরও সীমান্তে চলছে গুলি, বাড়ছে হত্যা। গত মার্চেও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন একাধিক বাংলাদেশি। এ ছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন। এবার যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের ছোঁড়া রাবার বুলেটে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। একজনের চোখে লেগেছে রাবার বুলেট।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর সীমান্তে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করলে বিএসএফ তাঁদের গুলি করে। আহতেরা হলেন, দৌলতপুর গ্রামের বরকত আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম ডালিম ও মো. দীন ইসলামের ছেলে পিয়াস হোসেন বাবু। আহতদের বেনাপোল পোর্ট থানা-পুলিশ ও বিজিবি নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) অধীন দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ২ বাংলাদেশি ভারতের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে তাঁরা আহত হন।
খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল খুরসিদ আনোয়ার বলেন, আহত অবস্থায় তাঁরা দৌঁড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বিজিবি তাদের আটক করে। এরপর তাঁদের দৌলতপুর ক্যাম্পে আনা হয়। পরে রাতেই তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
খুরসিদ আনোয়ার জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধ মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধ অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হবে।
নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ইউছুপ আলম বলেন, বিএসএফের ছোঁড়া রাবার বুলেটের আঘাতে তাদের দুজনের চোখ মারাত্মক জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতেই তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ লালমনিরহাটের বুড়িরহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও দুজন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবির কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বুড়িরহাট সীমান্তের মেইন পিলার নম্বর ৯১৩/৪ এসের কাছে বেলতলা থেকে ১০০ গজ ভারতের ভেতরে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত বাংলাদেশির নাম মুরুলী চন্দ্র (৪২)। তিনি চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের সুশীল চন্দ্র রায়ের ছেলে। আহতেরা হলেন, একই গ্রামের আজিমুল হকের ছেলে মিজানুর রহমান (৩২) ও নুর ইসলামের ছেলে লিটন মিয়া (৪২)।
জানা যায়, বেলতলা থেকে ১০০ গজ ভারতের ভেতরে ১৫ থেকে ২০ জন বাংলাদেশি চোরাচালানের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে বিএসএফের টহল দলের সদস্যরা ২ থেকে ৩ রাউন্ড গুলি করে। এতে মুরুলি চন্দ্র পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন মিজানুর রহমান ও লিটন মিয়া।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি বলেন, এ ব্যাপারে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে অলিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হন। শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, অলিউলসহ আরও ৫-৬ জন চোরাকারবারি চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের প্রতিহত করতে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। এতে অলিউল গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এর আগে গত ২৬ মার্চ নওগাঁ জেলার পোরশা সীমান্তে রাতের আঁধারে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে আল আমিন (২৭) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। সীমান্তের দুই কিলোমিটার দূরে ভারতের অভ্যন্তরে বিলমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান, বাংলাদেশি যুবক নিহতের বিষয়ে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়।