যশোর জেনারেল হাসপাতালে চরম আকার নিয়েছে ওষুধ সংকট। চাহিদার মাত্র ৮ ভাগের ১ ভাগ বরাদ্দ থাকায় জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতিতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। এই সুযোগে জরুরি মুহূর্তে বাড়তি মূল্য আদায় করছেন ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা।
যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইলসহ আশপাশের জেলার রোগীরা চিকিৎসা নেন যশোর জেনারেল হাসপাতালে। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি হন সেখানে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন প্রায় এক হাজার রোগী।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে খুবই সামান্য ওষুধ সরবরাহ করা হয়। বেশিরভাগ ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে হয়। ফলে, আর্থিক চাপ বৃদ্ধি ও ভোগান্তিতে তারা।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের স্টোর কিপার গৌতম কুমার সরকার বলেন, ‘গেল অর্থবছরে হাসপাতালের প্রায় ৬০ কোটি টাকার ওষুধের চাহিদা ছিল। কিন্তু, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৮ কোটি ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ওষুধ।’
চাহিদা অনুযায়ী ওষুধের সরবরাহ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও হিমশিম খাচ্ছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আহসান কবীর বাপ্পি বলেন, ‘চাহিদার বিপরীতে ওষুধের যোগান অপ্রতুল। তাই রোগীদের সব ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালে সরকারিভাবে ১১২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ হয়। এর মধ্যে ৮২ ধরনের ওষুধ দেয় সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল। আর বাকি ওষুধ টেন্ডার ও স্থানীয় অর্থায়নে কেনা হয়। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় জোড়াতালি দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে, বলছে কর্তৃপক্ষ।