নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোশতাক আহমেদ রুহীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা ও মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই মামলায় কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসলাম উদ্দিন ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল খালেকসহ ৩৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রানা মিয়া (২৮) কৈলাটী ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
মঙ্গরবার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহীনুর আলম শাহীন। মামলায় ১৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বরাতে ওসি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহীর নির্দেশে তাঁর লোকজন এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তারা উপজেলার যাত্রাবাড়ি বাজার সংলগ্ন গুমাই নদীর ফেরীঘাটে অবস্থান নিয়ে ওই নদী দিয়ে চলাচলকারী মালামালবাহী বিভিন্ন নৌকা, যাত্রীবাহী নৌকা থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছিরেন নিয়মিতভাবে। চাঁদা না দিতে চাইলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গত সোমবার দুপুরে ওই নদী দিয়ে নৌকা করে বালু-পাথর নিয়ে যাওয়ার সময় রুহীর লোকজন নৌকার দুজন মালিককে আটকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তাদের মারধর ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।’
ওসি মো. জালাল উদ্দীন আরও বলেন, ‘এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রানা মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এরআগে গত ১২ আগস্ট দুর্গাপুর থানায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা করেন দুর্গাপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মিঠুন দত্ত নামে এক ব্যক্তি। এতে দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র আবদুস ছালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।