নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের এসিড নিক্ষেপে ঝলসে গেছে খলিলুর রহমান (৫০) নামের এক কৃষকের শরীর। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ নাওদ্বারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় ওই কৃষককে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে খলিলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
এরপরই একজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত ওই ব্যক্তির নাম শরিফ মিয়া (৩৬)। তিনি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের ধানীপাড়া এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে।
মামলা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার দক্ষিণ নাওদ্বারা গ্রামের খলিলুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল প্রতিবেশী আ. হান্নান ও মিজান মিয়ার। এ ঘটনায় গত (১১ জানুয়ারি) শনিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন খলিলুর। গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যে রাতে খলিলুর প্রসাব করতে বের হলে শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় এসিডে তার শরীরের পেছনের অংশ পুড়ে ঝলসে যায়। পরে তার চিৎকারে এসিড নিক্ষেপকারীরা পালিয়ে যায়।
ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। বাবা রাতে বাইরে গেলে হঠাৎ তার চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আ. হান্নান ও শরীফ পালিয়ে যাচ্ছে। পরে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান জানান, শরীরের ১০% ভাগ এসিডে ঝলসে গেছে। হাসপাতালেই ভর্তি রাখা হয়েছে। বর্তমানে অবস্থা স্থিতিশীল আছে।
এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার পরে অভিযুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করি। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোর্পদ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’