পিডিবির ভূতুড়ে বিল

২০ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ

পিডিবির ভূতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মানুষ। প্রিপেইড মিটার গ্রাহক থেকে শুরু করে ২০ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে পর্যন্ত এসেছে লাখ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল। গ্রাহকদের অভিযোগ, পিডিবির এমন হয়রানি বহুদিন ধরে চলছে। তথ্যপ্রমাণ না থাকায় অনেককে অযৌক্তিক বিলই পরিশোধ করতে হচ্ছে। আর পিডিবি বলছে, অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরিষাবাড়ীর আদ্রা আব্দুল গফুর জয়নাল আবেদীন মাদ্রাসায় ব্যবহার করা হয় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার। অথচ চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত মাদ্রাসাটিকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা বিল করেছে পিডিবি। 

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বলেন, 'এই প্রতিষ্ঠানের কোন বকেয়া বিল নাই। আমরা কার্ড মিটার বিল চালাই। কারেন্ট চালাই আর কি। তো যদি কারেন্ট বিল বকেয়া থাকতো, তাহলে হয়তো নিশ্চয়ই আমাদেরকে অবগত করাইতো বা কারেন্ট বিল আমাদেরকে দিত। কিন্তু আমার জানা মতে ১৫ বছর যাবত কোন কারেন্ট বিল আমাদের কাছে আসে নাই। আমরা শুধু কার্ড মিটারের বিল, মানে কারেন্ট চালাই।'

এদিকে, প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন চর বড়বাড়িয়ার আলাউদ্দিন। সম্প্রতি তার সেচ মেশিনের বিল এসেছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। পরিবারের দাবি, অনেক আগেই কাগজপত্র নিষ্পত্তি করে সংযোগ অপসারণ করেছে পিডিবি। 

এ প্রসঙ্গে মরহুম আলাউদ্দিনের ছোট ভাই আলম জানান, 'মনে করেন মারা যাওয়ার পরও পাঁচ বছর চালান গেছে। না চালার পরে মারা গেছে। তাও তো ধরেন যে ১৮-১৯ বছর মারা গেছে। এখন ডিসেম্বর দেহাইতেছে। ডিসেম্বরে। অরা তো যাই ইচ্ছা তাই করতে পারে। দেন দরবারে মনে করেন তারা তো সমাধান করে বলল না তাহলে তো এটা তার হইতেছে না। অফদা তনে তারাই এইন কাগজ সতি কলুস করে নিয়ে তার দিকে গেছে গা। তারপরেও এহন বিল আইতাছে? তারপরেও বিল আইতাছে। এই যে এইবার আইছে। পাঁচ সাত বছর দেওয়া হয় নাই।

উপজেলায় এমন অভিযোগ আছে আরও অনেকের। সাদিনা বাড়ি এলাকার আব্দুস সামাদের সেচ মেশিনের বিল এসেছে ২ লাখ ১২ হাজার টাকা। অথচ বিলের মিটার নম্বরটি তার নয়।

এ বিষয়ে মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, 'আমারডা হলো ৮৮২৪। আর এইডা ৮৮২২, এইডা আমার না। এইডা আরও কয়েকবার অফদা থেকে আরি সাব আইয়া আমার বাড়িতে চেক করছে এবং আমার বিল ক্লিয়ার পাইছে কাগজ আলাদা। তারপরে সামাদ নামে বহু তালাশ করছে এই এখানে পায় না।' 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পিডিবির এমন হয়রানি নতুন নয়। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন দরিদ্র গ্রাহকেরা। এ বিষয়ে পিডিবি বলছে, বাড়তি বিল বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গ্রাহকদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াদুদ আলী বলেন, আমরা সাথে সাথেই এটার তদন্ত সাপেক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন বা কারেকশন বা যে যে বিভাগীয় ব্যবস্থা আছে সেই ব্যবস্থা নেই আরকি। এখন আমার নলেজে থাকলে আমাদের কাছে কোনো আবেদন পেন্ডিং নাই। এগুলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে (এসে) যে সমাধান পায় নাই, এরকম কোনো অভিযোগ তো আমি পাই নাই।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পিডিবির আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।