রাজশাহীতে চিকিৎসক হত্যা: বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক কাজেম আলীকে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকেরা। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ মামলার কোনো অগ্রগতি না হলে বাধ্য কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন চিকিৎসকেরা।

হত্যার প্রতিবাদ এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় রামেকের সামনে আজ মঙ্গলবার সাকলে এই মানববন্ধন করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) রাজশাহী শাখা।

মানববন্ধনে বিএমএ রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা বাদ দিয়ে সহকর্মীর হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট উন্মোচন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি উদ্বেগের।’

ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘আমরা চাই না এটি নিয়ে বৃহত্তর অন্দোলন করতে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ মামলার কোনো অগ্রগতি না হলে বাধ্য হবো কঠোর কর্মসূচি দিতে।’ সহকর্মীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ার দেন তিনি। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন– বিএমএ রাজশাহী শাখার সভাপতি ডা. এবি সিদ্দিকি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ রাজশাহীর সভাপতি ডা. চিন্ময় কান্তি দাস, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ রামেকে সভাপতি ডা. খলিলুর রহমান, বিএমএ রাজশাহীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অনান্য চিকিৎসক ও ছাত্ররা।

এদিকে দুই চিকিৎসক হত্যার ঘটনায় রাজশাহীর দুই থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহত পরিবারের স্বজনেরা। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় চিকিৎসক কাজেম আলীর স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বাদী হয়ে আরএমপির রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

অপরদিকে গ্রাম্য চিকিৎসক এরশাদ আলীকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় তাঁর ভাই রুহল আমিন ৭–৮ জনকে আসামি করে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে দুটি ঘটনা এখনো কাউকে আটক করতে পারিনি পুলিশ।

রাজশাহী মেট্রপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জামিলুর ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী দুই চিকিৎসক হত্যার ঘটনায় দুই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত  কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’