আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে: সারজিস আলম

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দাফন ভারতের নয়াদিল্লিতে হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাবনার চাটমোহর বালুচর মাঠে আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং দেশের মানুষকে বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে বেছে নিতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দালালতন্ত্র, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষা খাতের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের খাবারের টেন্ডারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসগুলোর ম্যানেজিং কমিটিতে যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সমাজে মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ ব্যবসা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।

বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম আরও বলেন, শুধু ক্ষমতায় থাকার কারণে কোনো দলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না।

জনগণকে ভালো ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।

এনসিপির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। এসব অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার শাসনামলে প্রশাসনের দলীয়করণ, হাজারো গুম, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রশাসনকে কোনো দলের প্রতীক নয়, বরং দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, পাবনার এনসিপি নেতা বরকতুল্লাহ ফাহাদ, শহীদ জাহিদুল ইসলামের বাবা দুলাল উদ্দিন মাষ্টার প্রমুখ।