জমি লিখে না দেওয়ায় খুনি ভাড়া করে শ্বশুরকে হত্যা পুত্রবধূর!

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার এলাকায় পুত্রবধূকে জমিজমা লিখে না দেওয়ায় খুনি ভাড়া করে শ্বশুরকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার সকালে অভিযুক্ত পুত্রবধূসহ তিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— নিহতের পুত্রবধূ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী হোসনা বেগম (৩৮)। ভাড়াটে খুনি এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) ও মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নজরুল ইসলাম (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দোয়ারাবাজার থানার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতের দিকে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ তদন্তে নামলে হত্যার রহস্য উন্মুচিত হয়।
 
দোয়ারাবাজার থানার তরিকুল ইসলাম তালুকদার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। তবে তার জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়াকে লিখে না দেওয়ায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কোন্দল তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হোসনা বেগম ও ইসমাইল মিয়া সুপরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হোসনা বেগম তার দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন। চুক্তিমতো ঘটনার রাতে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী নিজ ঘরে ঘুমাতে গেলে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টেনে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে সটকে পড়ে।  

পরদিন শনিবার সকালে হোসনা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালান এবং তড়িঘড়ি করে দাফনের আয়োজন করেন। কিন্তু নিহতের মুখে রক্ত ও গলায় স্পষ্ট কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠায়।