দেড় যুগ পর নাটোর চিনিকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার টন বেশি চিনি উৎপাদন হয়েছে। এতে লোকসান কেটে যাওয়ার আশায় কর্মকর্তারা। এ বছর চাষিরা ভালো দাম পাওয়ায় চিনিকলে আখের সংকট হয়নি। নির্ধারিত ৬০ দিনের পরেও আরও ১৪ দিন চলেছে আখ মাড়াই। সময়মতো সার, বীজ ও ঋণ সহায়তা পেলে এবং আখের মূল্য দ্রুত পরিশোধ হলে আখের উৎপাদন আরও বাড়বে, বলছেন চাষিরা।
গত দেড় যুগ ধরে আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্য পূরণ হয়নি নাটোর চিনিকলে। আখের সংকটে প্রতি মৌসুমেই নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হতো মাড়াই। তবে এবার উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার টন বেশি। ৬০ কার্য দিবসে ৯০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত ২৯ নভেম্বর শুরু হয় কাজ। তবে আখের ভালো সরবরাহ থাকায় মোট ৭৪ দিন চলেছে মাড়াই। আর ৫ হাজার ১৩০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদিত হয়েছে ৬ হাজার ১৪৯ টন।
নাটোর চিনিকলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আখলাছুর রহমান জানান, দেড় যুগ পর নাটোর চিনিকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার টন বেশি চিনি উৎপাদন হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড় হওয়ায় কৃষকদের দ্রুত মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। সরবরাহ ভালো থাকায় এ মৌসুমে আখ মাড়াই হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টন। প্রতি বছর গড়ে ১০ কোটি টাকা লোকসান গুণলেও এবার লাভের আশা করা যাচ্ছে।
নাটোর চিনিকলে আখ মাড়াইয়ে কাজ করেন সাত শতাধিক মৌসুমী শ্রমিক। শ্রমিকেরা জানান, মাড়াই শেষে বাকি সময় বেকার থাকেন। তাই সারা বছর মিলের উৎপাদন চালু রাখলে কর্মসংস্থানের জন্য আর অন্য কিছু ভাবার প্রয়োজন পড়ে না।
চাষিরা বলছেন, মিলে সরবরাহ আখের দাম দ্রুত পরিশোধ ও ন্যায্য দাম পেলে মিলে আখ দেওয়া বাড়বে।
নাটোর চিনিকলে এ মৌসুমে উৎপাদিত চিনির মূল্য প্রায় ৭৭ কোটি টাকা।