কাস্টমসের স্বর্ণ চুরি: জড়িত কর্মকর্তারা চিহ্নিত, তবুও ব্যবস্থা নেই

একাধিক কর্মকর্তার পারস্পরিক যোগসাজশে উধাও হয়েছিল বিমানবন্দর গোডাউনের ৫৫ কেজি স্বর্ণ। দুই বছর পরও এসব স্বর্ণের হদিস মেলেনি। তবে চিহ্নিত করা গেছে জড়িতদের। নিজেদের রক্ষায় কর্মকর্তারা গুদামের আলমারি কেটে সাজিয়েছিলেন চুরির নাটকও। এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা বের হয়ে এসেছে এনবিআরের তদন্তে। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমসের একটি উচ্চনিরাপত্তাবিশিষ্ট ট্রানজিট গুদাম থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ গায়েব হয় প্রায় দুই বছর আগে। যা নিয়ে তোলপাড় হয় সারা দেশে। যাতে রক্ষিত ছিল বিভিন্ন সময় আটককৃত স্বর্ণালংকার।

এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন জমা দিলেও তা আর প্রকাশ হয়নি। তবে তা এসেছে ইনডিপেনডেন্ট টিভির হাতে। যেখানে উঠে আসে, গুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই কিভাবে ৫৫ কেজি স্বর্ণ বিভিন্ন সময় সরিয়ে নিয়েছেন।

তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর গুদামের মধ্যে শুধুমাত্র একটি ছোট আলমারির দরজা ভাঙা পাওয়া যায়। এছাড়া গুদামের পূর্ব-দক্ষিণে সেন্ট্রাল এয়ারকন্ডিশনড সিস্টেমের ডাক্টের কিছু অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়।

ঘটনা ভিন্ন খাতে ধামাচাপা দিতে ৬টি মেমোভুক্ত ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ কিনে গোডাউনে এনে রেখে দেন তারা এবং চুরির নাটক সাজান।

যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন গুদামের দায়িত্বে থাকা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদমর্যাদার ৪ জন ও ৪ জন সিপাহী। যা সুনিশ্চিত বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, মোট সাড়ে ৫৫ কেজি স্বর্ণ বিভিন্ন সময়ে চুরি করে নিয়ে যায় চক্রটি। এসব বাজেয়াপ্ত স্বর্ণ এক রাতের মধ্যে চুরি করা অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গুদামের রেজিস্টারে উল্লেখ থাকলেও, সীলমোহর দেওয়া ওই দলিলের বিপরীতে কোনো স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়নি কর্মকর্তারা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রায় দু’বছর বা তার বেশি, এই সময়ের মধ্যেও এটার কোনো সুরাহা হলো না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের যোগসাজশ ছাড়া হয়েছে এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই এখানে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা গেল না।’

তার মতে, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না গেলে, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অপরাধী যখন পার পেয়ে যায় তখন সেই অপরাধ বাড়বে, এটিই স্বাভাবিক। অপরাধ করেও অপরাধী সুরক্ষিত হবে এবং তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাবে না। এতে এই ধরণের অপরাধ আরও বাড়বে এবং বিকশিত হবে।’

ট্রানজিট গুদামে স্বর্ণের মতো স্পর্শকাতর ও মূল্যবান পণ্য ব্যবস্থাপনায় কাস্টম হাউসের বিভিন্ন গাফিলতির কথাও উঠে আসে তদন্তে। এছাড়া চুরি ঠেকানো এবং গুদাম রক্ষণাবেক্ষণে ১৭টি সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।