২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিল শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো করদাতাদের জন্য আগাম আয়কর বিবরণী দাখিলে প্রণোদনার সুযোগ থাকছে। আবার, দেরিতে রিটার্ন দাখিলেও জরিমানার নতুন হার ঠিক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু প্রণোদনা নয়, জনগণের করের টাকা খরচে সরকারের স্বচ্ছতা থাকলে মানুষ কর দিতে আগ্রহী হবে।
প্রতি বছর নির্ধারিত সময় শেষ হলেও, নানা কারণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দফায় দফায় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়। গত অর্থবছরেও ব্যক্তি করদাতাদের চার দফা রিটার্ন দাখিলের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতে করদাতার মধ্যে এক ধরনের গাফিলতি তৈরী হয়।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আগাম রিটার্ন দাখিলের প্রণোদনা চালু করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। চলতি অর্থবছর থেকে ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে পুরো করবর্ষকে ৪ প্রান্তিকে ভাগ করেছে এনবিআর। আর করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
নতুন অর্থ আইন অনুযায়ী, ব্যক্তি করদাতারা ২০২৫-২৬ আয়করবর্ষের রিটার্ন চলতি করবর্ষের জুলাই - সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল করলে করছাড় সুবিধা পাবেন। অক্টোবর- ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা দিলে অতিরিক্ত কোনো কর ছাড় পাবেন না। অন্যদিকে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা গুনতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে তাদেরও গুনতে হবে অতিরিক্ত জরিমানা।
আয়কর বিশ্লেষক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ব্যাংক থেকে হোক বা যেসমস্ত জায়গায় তার সম্পত্তি আছে, নথিপত্র নিয়ে অনলাইনে রিটার্ন ফাইল করতে পারেন। দ্রুত রিটার্ন দিয়ে দিলে সাথে কিছু প্রণোদনাও পেলেন।
অন্যদিকে, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের ২ মাস আগে রিটার্ন দাখিল করলে করছাড় সুবিধা পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর মূল্যায়ন বর্ষের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে গুনতে হবে জরিমানা।
আয়কর বিশ্লেষক আশরাফ হোসেন খান বলেন, ব্যয় যদি সঠিকভাবে না হয়, তাহলে মানুষ উৎসাহীত হবে না। আমি মনে করি, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও শতভাগ জবাবদিহি যদি নিশ্চিত করে তাহলে রাজস্ব বাড়বে। এতে মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন হবে।
এদিকে, গত করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।



