জ্বালানি সংকটে দিশেহারা চট্টগ্রামের পণ্য পরিবহন খাত

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে নাভিশ্বাস উঠেছে চট্টগ্রামের পণ্য পরিবহন খাতে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বেড়েছে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা আর ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসায় দিশেহারা চালক ও মালিকরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও রপ্তানি বাণিজ্যে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটে দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

তেলের পাম্পে চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা এখন প্রতিদিনের চিত্র। যেখানে আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বা আশপাশের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগত ১৫ ঘণ্টা, সেখানে এখন জ্বালানি পেতেই বসে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

তেল নিতে অপেক্ষমাণ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের এক ট্রাক চালক জানান, গতকাল ট্রিপ মারতে পারি নাই তেলের জন্য। আজকে এখনও পর্যন্ত এখানে (পেট্রোল পাম্পে অপেক্ষায়) আছি। দেখতেই পারছেন।

আরেক চালক বলেন, পাম্পে ঢুকলে ৫-১০ লিটার তেল দেবে। এই তেলেতো আমাদের এই গাড়িগুলো চলে না। 

অনেক ভোগান্তিতে আছি। তার মধ্যে তেল নিয়ে আমরা ঢাকা যাই। এদিক থেকে তেল যদি না পাই ঢাকা রুটে আমরা তেল পাই না, বলে জানালেন আরেক ভুক্তভোগী চালক।

এমন পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন রাস্তায় কমেছে পরিবহন, অন্যদিকে বেড়েছে এর ভাড়া। ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার ট্রিপ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। পরিবহন মালিকদের দাবি, ট্রিপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বাড়তি সময়ের ভোগান্তি।

বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ বলেন, ‘৩৬ থেকে ৪০ ঘন্টার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে (ঢাকা) মাল যাওয়া এবং আসা সম্পন্ন হত। এখন সময়ও অনেক বেড়ে গেছে। আগের চেয়ে (পণ্য পরিবহনে) দুই দিন সময় বেড়ে গেছে, যার ফলে গাড়ি আমাদের জায়গায় জায়গায় ব্লক হয়ে গেছে।’ 

এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পণ্যের বাজারে।

চট্টগ্রামের চালকল মালিক সমিতি যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আগে যে গাড়ি আমরা ২৩ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আনতাম, এখন সেটা ৩০ হাজার টাকাতেও পেতে কষ্ট হয়। আমরা বলি ৩০ হাজার টাকার উপরে হলে আমাদের মাল আনার দরকার নাই, যেহেতু বিক্রি করতে পারব না।’ 

তিনি আর জানান, ৩১ থেকে ৩৩ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে মাল আনতে হয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, চালের পরিবহন খরচ কেজিতে ১ টাকা বেড়ে যায়।

দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে পণ্য পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহে সঠিক সমন্বয়ের দাবি সংশ্লিষ্টদের।