প্রস্তাবিত বাজেট শ্রমজীবীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ, দাবি শ্রমিক নেতাদের 

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, বাজেট প্রণয়নে শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এ সময় কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রমিক কল্যাণে কার্যকর বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

শুক্রবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাজেটে শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশে ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস। এসময় শ্রমিকদের জন্য ছয় অগ্রাধিকার ও ১৫ সুপারিশ তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা।

বক্তারা বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে টিন বাধ্যতামূলক করা, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি সমন্বয়ের অভাবে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষরা আছেন বিপাকে।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, পরোক্ষ কর তিন লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে দুই লাখ কোটি টাকা আসছে আমাদের শ্রমজীবী মানুষের পক্ষ থেকে। তাহলে আমরা যদি অন্তর্ভুক্তি বলি বা গণতান্ত্রিক বলি এর কতটুকু হিস্যা আমাদের শ্রমজীবী মানুষের জন্য আছে সেটা আমরা একটু দাবি করতে চাই। 
 
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, দেশের কিছু একটা অংশ যদি শ্রমজীবী মানুষের জন্য দেওয়া হতো তাহলে কিন্তু দেশে যে উৎপাদনশীলতা সেটা অনেক বাড়ত। সেই শ্রমিকদের আজকে নুন আনতে পান্তা ফুরায় 
 
শ্রমিকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাটাবেস, শ্রমিক কার্ড, রেশনিং ব্যবস্থা, বিশেষায়িত হাসপাতাল, আবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়াতে বাজেট বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।

বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেট প্রণয়নেই গণতান্ত্রীকতার একটা ঘাটতি থেকে গেছে। তারপরও আমরা বলব যে, এটি একটি বড় বাজেট। এবং সেই বাজেটের বক্তৃতায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন– অনেকগুলো জিনিস এনেছেন। কিন্তু বরাদ্দের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলনটা আমরা দেখছি না। 

শ্রমিক নেতাদের মতে, কেবল প্রবৃদ্ধির হিসাব নয়, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েই বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে।