জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতি তেমন ভালো অবস্থায় নেই। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বেসরকারি বিনিয়োগের হার। যা গত ১৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড। 

বিশ্লেষকরা বলছেন , রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাবে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে। ফলে কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। 

দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। অথচ সেই খাতের বিনিয়োগই এখন ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। 

বিবিএসের সাময়িক হিসাবে, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসময় বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ জিডিপির তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে যা ছিলো ২১ দশমিক সাত পাঁচ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কয়েক বছর ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, উচ্চ কর এবং ঋণের বাড়তি সুদের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে শিল্প কারখানার সংখ্যা কমার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সংকট দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত একটি দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিনিয়োগের এই নিম্নমুখী প্রবণতা কাটাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং জ্বালানি ও অর্থায়ন সংকটের দ্রুত সমাধান জরুরি।