বন্ধ থাকা সব চিনিকল চালুর পরিকল্পনা

বন্ধ থাকা সব চিনিকল আবার চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব চিনিকল লাভজনক করতে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার কথা বলছেন চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান। তবে, শুধু কারখানা চালু নয়, দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।

একসময় দেশে চিনির চাহিদার বড় অংশ মেটাতো সরকারি চিনিকলগুলো। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের ছয়টি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এগুলো হলো শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর চিনিকল। এতে সংকটে পড়ে হাজার হাজার শ্রমিক ও আখচাষি। 

চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ জানান, বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে সব চিনিকল উৎপাদনে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করা হবে।

বন্ধ মিল চালুর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ অর্থনীতিবিদের।  

অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘বিশেষ করে চালুর আগে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি। চিনির উপজাত পণ্য উৎপাদনে আলাদা নজর দিতে হবে।’

চিনিকল চালু করতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন মেলেনি।