বাংলাদেশে তৈরি উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশ্বমানের মাদারবোর্ড বা পিসিবিএ (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি) এখন থেকে ব্যবহৃত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সরঞ্জামে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি শুরু করেছে গ্লোবাল টেক জায়ান্ট ওয়ালটন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে এই রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই শিপমেন্টের উদ্বোধন করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী এবং এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, 'ওয়ালটন সত্যিই এক বিস্ময়। ওয়ালটন যে এত সুন্দর এবং সুবিশাল এক দেশীয় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছে তা দেখে আমরা অভিভূত। বাংলাদেশও যে বিশ্বমানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন করতে পারে তা ওয়ালটন প্রমাণ করেছে। ওয়ালটন বাংলাদেশের গর্ব।'
ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত এই পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘গানশট’ (গুলি ছোঁড়ার শব্দ) শনাক্তকরণ এবং জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা সিস্টেমের সিকিউরিটি ডিভাইসে ব্যবহৃত হবে। আমেরিকার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘সেফপ্রো টেকনোলজিস ইনকরপোরেশন’ ওয়ালটনের তৈরি এই মাদারবোর্ড আমদানি করছে। আমেরিকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সুনাম রয়েছে।
ওয়ালটনের বিশাল কারখানা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দেশীয় শিল্পকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। যার প্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমরা দেশে উৎপাদিত পণ্যকে করমুক্ত করার চেষ্টা করেছি। কীভাবে বাংলাদেশী শিল্প ও পণ্যকে আরও উৎসাহিত করা যায় সেজন্য আমরা কর কাঠামোতে বিশেষ নজর দিচ্ছি।'
কারখানায় পৌঁছানোর পর অতিথিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং ওয়ালটনের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও তথ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর তাঁরা ওয়ালটনের প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টারসহ মাদারবোর্ড (এসএমটি), টেলিভিশন প্যানেল ক্লিন রুম, পিসিবি, মোল্ড অ্যান্ড ডাই ইত্যাদি উৎপাদন ইউনিটগুলো ঘুরে দেখেন।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সুবিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা ওয়ালটনের এই অত্যাধুনিক কারখানায় ফ্রিজ, টিভি, এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনসহ অসংখ্য উচ্চমানের পণ্য তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ নিয়ে ওয়ালটনের তৈরি পণ্য এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের ৫৫টিরও বেশি দেশে সফলতার সঙ্গে রপ্তানি করা হচ্ছে।