অনলাইনে একটি সাধারণ বিজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে যে গল্পের শুরু হয়েছিল, এবার তা শেষ হলো বিশ্বজয়ে! যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ‘টিনইগল ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কম্পিটিশন’-এর ফাইনালে ‘পারসুয়েসিভ স্পিকিং’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের মেয়ে রাহমাহ খান চৌধুরী। তাঁর ঝুলিতে উঠেছে একটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্যপদক।
সিলেটের আনন্দ নিকেতন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহমাহ। পড়াশোনায় মেধাবী এই তরুণীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দেশকে তুলে ধরা। সেই সুযোগ আসে ‘টিনইগল’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। জাতীয় পর্যায়ে প্রথম ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় কেরানীগঞ্জের ‘লন্ডন স্কুল অব ইংলিশ’-এ। সেখানে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি এবং সরাসরি গ্লোবাল ফাইনালে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা লাভ করেন।
গ্লোবাল ফাইনাল আয়োজনের স্থান হিসেবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে স্কুল পরীক্ষার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ইভেন্টের তারিখ মিলে যাওয়ায় রাহমাহ যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন। বাবা ড. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী ও মা রিজী আক্তারের পূর্ণ সমর্থনে শুরু হয় ভিসা প্রক্রিয়া। অবশেষে গত ২৫ জুলাই বিশ্বজয়ের স্বপ্নে মার্কিন মুল্লুকে উড়াল দেন রাহমাহ।
আমেরিকার বিখ্যাত মন্টক্লেয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বসে ফাইনালের আসর। যেখানে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। সাত দিনব্যাপী আয়োজিত এই গ্লোবাল ফাইনালে স্পেলিং বি, বিতর্ক, সাধারণ জ্ঞান ও লেখালেখির মতো কঠিন একাধিক ইভেন্টে মুখোমুখি হতে হয় প্রতিযোগীদের। প্রতিটি ধাপেই যুক্তির ধার ও সাবলীল উপস্থাপনায় বিচারকদের নজর কাড়েন রাহমাহ।
পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্তে শতশত আন্তর্জাতিক দর্শকের করতালির মধ্যে যখন ‘পারসুয়েসিভ স্পিকিং’ বা প্ররোচিত বাচনশৈলীতে প্রথম স্থান হিসেবে রাহমাহর নাম ঘোষিত হয়, তখন বিশ্বমঞ্চে তিনি উঁচিয়ে ধরেন বাংলাদেশের পতাকা।
মর্যাদাকর এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে রাহমাহ বলেন, ‘বিশ্বমঞ্চে ৭০টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে নিজের দেশের নাম উঁচিয়ে ধরার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই পদক শুধু আমার নয়, আমার পুরো বাংলাদেশের।’