কাশ্মীর—যেখানে বরফ গলে নদী হয়ে নামে, আর আলো ছুঁয়ে যায় পর্বতের কান্না। সেই ভূস্বর্গে, মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) নামে এক কালরাত। পাহেলগম নৈসর্গিক নির্জনতায় গর্জে ওঠে সহিংসতা—নিহত হন ২৮ নিরপরাধ পর্যটক। এ ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন গোটা ভারত।
এই রক্তাক্ত সংবাদে এক আবেগজর্জরিত শোকবার্তা ছড়িয়ে দেন বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান। বার্তায় ছিল অতীতের এক গভীর ক্ষত। এক না-পূরণ হওয়া প্রতিশ্রুতি, এক অসমাপ্ত সফর... বাবার কাছে দেওয়া না-বলা কথা।
১৯৮১। বয়স তখন মাত্র ১৫। শাহরুখ হারালেন তাঁর আশ্রয়—বাবা মারা গেলেন। মৃত্যুর আগে বাবা তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমার তিন জায়গা দেখা উচিত—ইস্তাম্বুল, প্যারিস আর কাশ্মীর। প্রথম দুটো একা যেও, কিন্তু কাশ্মীরে আমি তোমায় নিজ হাতে নিয়ে যাব।’ কারণ? কারণ কাশ্মীর ছিল তাঁদের রক্তে—শাহরুখের দাদি জন্মসূত্রে কাশ্মীরি, তাঁর বাবার শৈশব কেটেছে ওই উপত্যকার বুকেই।
কিন্তু বাবার সঙ্গে সেই সফর আর হলো না। বন্ধুরা ডাকল, পরিবার গেল ছুটিতে, পরিচালক ডাকলেন শুটিংয়ে—কিন্তু শাহরুখ যাননি। গিয়েছেন ইস্তাম্বুলে, প্যারিসে, কিন্তু কাশ্মীর ছিল না। ছিল শুধু অপেক্ষা আর অভাব। তাঁর নিজের কথায়, ‘কাশ্মীরে গেলে বাবার কথা খুব মনে পড়বে। বাবার হাত ধরেই তো যাওয়ার কথা ছিল!’
চার দশক পর, ২০১২ সালে, সেই শূন্যতা পূরণ করলেন আরেকজন ‘বাবা’—প্রখ্যাত নির্মাতা যশ চোপড়া। যাকে শাহরুখ বাবা হিসেবেই শ্রদ্ধা করেন। ‘জাব তাক হ্যায় জান’ ছবির শুটিংয়ের জন্য যশ বলেছিলেন, ‘চল আমার সঙ্গে, আমি তোমায় কাশ্মীর দেখাই।’ শাহরুখ আর না বলতে পারেননি।
সেই প্রথম পা রাখলেন কাশ্মীরে—কিন্তু মনে হচ্ছিল, যশ চোপড়ার ছায়ায় যেন বাবাই ফিরে এসেছেন, তাঁকেই কাশ্মীর দেখাচ্ছেন। সে অভিজ্ঞতা তিনি পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিয়েছেন।
যে জায়গায় মিশে আছে অভিনেতার পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মিক টান—সেখানে এত নৃশংসতা তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। একই সঙ্গে যন্ত্রণাও পাচ্ছেন। সেই দুঃখ, সেই হতাশা প্রকাশ করার ভাষা নেই তাঁর। তিনি তাই সৃষ্টিকর্তার মুখাপেক্ষী। আগামীতে যেন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, প্রার্থনা তাঁর। যাঁরা অসময়ে চলে গেলেন, তাঁদের পরিবারকেও সান্ত্বনা জানিয়েছেন তিনি।