বাফটা’র মঞ্চে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় ছবি ‘বুং’। মর্যাদাকর এই পুরস্কারের ৭৯তম আসরে ‘বেস্ট চিলড্রেনস অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে সেরার মুকুট লাভ করেছে ছবিটি। আর এই স্বীকৃতিপ্রাপ্তির পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত মণিপুরে শান্তি ফেরার প্রার্থনা করেন ভারতীয় নির্মাতা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী।
ফারহান আখতার ও রীতেশ সিধওয়ানি প্রযোজিত এই ছবির প্রেক্ষাপট মণিপুরের সীমান্তবর্তী এক প্রত্যন্ত গ্রামকে ঘিরে। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা খুদে বুং। তাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ছবিটি। সে তার মাকে বিশেষ চমক দিতে চায়। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ছোট্ট বুং সহিংসতায় বিপর্যস্ত মণিপুরে তার নিখোঁজ বাবাকে খুঁজে বেড়ায়। তার একটাই লক্ষ্য, বাবাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে গোটা পরিবারে এক মিলনমেলা ঘটানো। তবে শিশুটির এই স্বপ্ন পূরণে কঠিন বাস্তবতা সামনে এসে দাঁড়ায়, যখন সে মণিপুরের সীমান্ত টপকানোর চেষ্টা করে। পর্দায় এমন মর্মস্পর্শী কাহিনিই তুলে ধরেছেন নির্মাতা।
লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হলে বাফটা পুরস্কার হাতে লক্ষ্মীপ্রিয়া বলেন, ‘‘এই সুযোগে শুধু বলতে চাই যে আমরা মণিপুরে শান্তি ফেরার প্রার্থনা করছি। আমরা প্রার্থনা করি, আমাদের সিনেমার ছোট্ট বুংয়ের মতো মণিপুরের সব বাস্তুচ্যুত শিশুরা তাদের নির্মল, সহজ-সরল শৈশব ফিরে পাক। ভবিষ্যতে তাদের সব স্বপ্ন পূরণ হোক।’’
মর্মস্পর্শী এই বক্তব্যের শেষদিকে নির্মাতা বলেন, ‘‘আমরা প্রার্থনা করি কোনো সংঘাত যেন এতটা ভয়াবহ না হয়, যা আমাদের মনুষ্যত্বের মতো সুপার পাওয়ার, অর্থাৎ ক্ষমাশীলতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই বাফটা-কে ধন্যবাদ, এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য শুধু পুরস্কারই নয়, বরং তা আমাদের আশা প্রকাশের মঞ্চ।’’
প্রসঙ্গত, এই ছবিতে অভিনয় করে মণিপুরী শিল্পী গুগুন কিপগেন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সিনেদুনিয়ার নজর কেড়েছে। সিনেমার প্রযোজক ফারহান আখতারও বাফটা পুরস্কার জয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। মঞ্চে গোটা টিমের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘এই ছবি ভারতের এমন এক অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে তৈরি, যেখানকার খুব কম সিনেমা দেখার সুযোগ পাই আমরা। তাই বুং-এর মতো মর্মস্পর্শী ছবির পাশে থাকার অনুভূতি অসাধারণ।’
সূত্র: ডব্লিউআইওএন