ককরোচ জনতা পার্টি! ভারতে কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই নতুন ‘রাজনৈতিক দল’। এই দলের আবির্ভাব জেন-জির হাত ধরে হলেও উন্মাদনা ছড়িয়েছে এখন আসমুদ্রহিমাচলের আট থেকে আশির প্রজন্মে। বিজেপি-কংগ্রেস নয়, এই নতুন দলেই নাকি বর্তমানে ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন খ্যাতনামারা! সিনেদুনিয়ার তারকা থেকে শুরু করে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদেরও অনেকে এতে যোগদানের ইচ্ছেপ্রকাশ করছেন!
কে নেই সেই তালিকায়? কীর্তি আজাদ, মহুয়া মৈত্রর মতো তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদরা আগেই এই দলে নাম লেখানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। এবার বলিউড তারকারাও হুড়মুড়িয়ে যোগদান করছেন! অনুরাগ কাশ্যপ, দিয়া মির্জা, কঙ্কনা সেন শর্মা থেকে শুরু করে এষা গুপ্তা, ফতিমা সানা শেখ, কুণাল কোহলিরাও রয়েছেন এই ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যের তালিকায়।
আপাতদৃষ্টিতে এটিকে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল মনে হলেও বিষয়টি মোটেও সেরকম কিছু নয়! বলা যেতে পারে, এটি প্রতীকী বা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল। এমন প্রতীকী প্রতিবাদের সূত্রপাত, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যা নিয়ে বিতর্কও তুঙ্গে। আদালতে শুনানির সময় বিচারপতি বলেন, ‘বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করেন।’ প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে শুরু হয় নানা সমালোচনা। নিন্দায় সরব হন নেটিজেনদের একাংশ। এরপরই মূলত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আবির্ভাব! আর মজা করে এতে যোগ দিচ্ছেন বলিউড তারকারাও।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠতা অভিজিৎ দীপক। একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২০ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আপ’র হয়ে সমাজমাধ্যমে প্রচারের কাজ করেছিলেন অভিজিৎ।
নয়া এই রাজনৈতিক দলের আদর্শবাণী হলো ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও অলস। ইতিমধ্যেই তারা ‘নিট কেলেঙ্কারি’সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও প্রতিবাদে সরব হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে এই কারণেই হুহু করে বাড়ছে ফলোয়ার। অভিজিৎ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকলে চলবে না। তাঁর মতে, আরশোলা সহিষ্ণুতারও প্রতীক। তাই নিছক রসিকতা করতে আসেননি, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে, যুবসমাজকে খুঁটিনাটি সম্পর্কে অবহিত করতে, সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে উৎসাহ জোগানোই তাঁদের লক্ষ্য।