দীর্ঘ ১৫ বছর পর পূর্ণাঙ্গ চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। পরিচালক রাম কমল মুখার্জির নির্মাণাধীন ‘সিস্টার নিবেদিতা’র বায়োপিকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, এটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অর্থবহ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলিনা বলেন, এই সিনেমাটি তার কাছে কেবল একটি অভিনয় প্রকল্প নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। পরিচালক রাম কমল মুখার্জির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে তিনি তার অভিনয়জীবনের অন্য সব কাজ থেকে আলাদা বলে উল্লেখ করেন।
সেলিনার মতে, সিস্টার নিবেদিতার চরিত্রে অভিনয় করা যেন শুধু একটি চরিত্র ফুটিয়ে তোলা নয়, বরং এক ধরনের আত্মিক আহ্বানে সাড়া দেওয়া।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই সিস্টার নিবেদিতার সঙ্গে তার এক অদ্ভুত মানসিক সংযোগ রয়েছে। তার বাবা পশ্চিমবঙ্গের বিনাগুড়িতে কর্মরত থাকাকালে পরিবারসহ প্রায়ই দার্জিলিং যেতেন। সে সময় তারা নিয়মিত রয় ভিলায় যেতেন, যেখানে জীবনের শেষ সময় কাটিয়েছিলেন সিস্টার নিবেদিতা। সেখানকার পরিবেশ তাকে ছোটবেলা থেকেই গভীরভাবে স্পর্শ করত বলে স্মরণ করেন অভিনেত্রী।
সেলিনা জানান, তার মায়ের কাছ থেকেই প্রথম সিস্টার নিবেদিতার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন কখনও ভাবেননি, একদিন তিনিই এই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন। এখন তার মনে হয়, যেন বহু আগেই এই চরিত্রের সঙ্গে তার এক অদৃশ্য সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
১৫ বছর ইউরোপে থাকার পর ভারতে ফিরে নিজের শিকড় এবং সনাতন ধর্মের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের কথাও তুলে ধরেন সেলিনা। তার ভাষায়, জীবনের অনেক ঘটনার অর্থ পরে গিয়ে স্পষ্ট হয় এবং এই সিনেমাও তার জীবনের সেই ধরনের একটি অধ্যায়।
সিস্টার নিবেদিতার প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তিনি ভারতে জন্মগ্রহণ না করলেও ভারতকে নিজের জীবন ও আদর্শের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, সমাজসেবা এবং জাতি গঠনে তার অবদান আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
সেলিনার মতে, একজন নারী হিসেবে সিস্টার নিবেদিতার সাহস, নিষ্ঠা এবং নারীর শিক্ষার প্রতি তার অঙ্গীকার তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
এদিকে, এই বায়োপিকের মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করেননি নির্মাতারা।