জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার মতে, শুধু হত্যাকাণ্ড বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করলেই হবে না, শহীদদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য বা তাদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।
স্ট্যাটাসে ফারুকী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দলগত অপরাধের বিচারের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা অতীতে বা বর্তমানে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করছেন কিংবা বিভিন্নভাবে তার পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের বিষয়ে রাষ্ট্রের অবস্থান কী হবে।
তার অভিযোগ, বিভিন্ন পেশার পরিচয়ে থাকা কিছু ব্যক্তি এখনও জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৬ বছরে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ শহীদদের আত্মত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বা ভুক্তভোগীদের কষ্টকে অস্বীকার করছেন, যা নিহতদের পরিবারের জন্য নতুন করে মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফারুকীর মতে, এসব বক্তব্যকে ব্যক্তিগতভাবে উপেক্ষা করা সম্ভব হলেও যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই শহীদদের স্মৃতি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মান রক্ষায় রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে ফ্যাসিবাদের পক্ষে প্রচারণা চালানো বা মানবতাবিরোধী অপরাধকে অস্বীকার করার মতো কর্মকাণ্ডের জন্য পৃথক আইন করা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
এ ছাড়া, ভুক্তভোগীদের স্মৃতিকে অসম্মান করে এমন বক্তব্য বা প্রচার অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মানসিক ক্ষত কিছুটা না শুকানো পর্যন্ত আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান এই নির্মাতা।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে ফারুকী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রক্তক্ষয়ী একটি অধ্যায়। তাই এই সময়ের ঘটনাগুলোকে সাধারণ রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হিসেবে না দেখে, ভুক্তভোগীদের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।


চট্টগ্রাম হবে দেশের প্রধান লজিস্টিক হাব: অর্থমন্ত্রী
