গত বছর জানুয়ারিতে গভীর রাতে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতের শিকার হন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান। পুলিশ এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রের থানে থেকে মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। তাদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার শরিফুল একজন বাংলাদেশি নাগরিক। প্রায় দেড় বছর পর সেই চাঞ্চল্যকর মামলায় এবার নতুন মোড়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভারতের একটি আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন অভিযুক্ত।
একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মামলার অভিযুক্ত শরিফুল বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি দোষ স্বীকার করার ইচ্ছেপ্রকাশ এবং দয়া প্রার্থনা করে আদালতে একটি আবেদন করেছেন। আদালত অভিযুক্তের আবেদনের বিষয়ে সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) কাছে জবাব চেয়েছেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর।
এরইমধ্যে এই মামলায় মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন অতিরিক্ত দায়রা জজ জিপি দেশমুখ। শরিফুলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) প্রাসঙ্গিক ধারায় প্রাণঘাতী অস্ত্র-সহ ডাকাতি, গুরুতর আঘাত এবং বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিদেশি আইন এবং পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) বিধিমালার প্রাসঙ্গিক ধারাতেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফ আলি খানের বান্দ্রার বাড়িতে জোর করে ঢুকে পড়ে এক যুবক। সে বাথরুম দিয়ে অভিনেতার ছোট ছেলে জেহর ঘরে প্রবেশ করে। সাইফ যখন বাচ্চাদের বাঁচাতে তাদের ঘরে যান, তখন ওই যুবক তাঁকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে পালিয়ে যায়। এতে সাইফ গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। সাইফের কোমর থেকে ছুরির একটি ভাঙা টুকরো বের করা হয়। প্রায় পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকার পর ছাড়া পান অভিনেতা।
অন্যদিকে, ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে থেকে এই ঘটনায় মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেসময় মুম্বাই পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি, তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি। পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং মুম্বাই আসেন।