বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ঘিরে শনিবার (১০ অক্টোবর) উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান। সিজেপি’র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সমর্থন জানাতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। আর সেই ময়দান থেকেই তাঁকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ। এ সময় ইমরানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বান্ধবী লেখা ওয়াশিংটন এবং তুতো বোন জাইন মেরি খান। পরে অবশ্য এদিন রাতেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সামাজিকমাধ্যমে একাধিক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে আটকের পর নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান লেখা ও জাইন। ভ্যানে বসে একটি ছবি শেয়ার করে জাইন লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। ছবিতে ইমরানকে হাত দিয়ে ‘পিস সাইন’ দেখাতে দেখা যায়।
শনিবার একটি ভিডিওতে লেখা ওয়াশিংটন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, পুলিশ তাঁদের বাড়ি ফিরতে দিচ্ছে না এবং কোনো গাড়ি বা ট্যাক্সিতেও উঠতে বাধা দিচ্ছে। এরপর অন্য একটি ভিডিওতে অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ভালো আছি এবং বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।’
অন্যদিকে, জাইন একটি মজার ভিডিও বানিয়ে ইমরানকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি আগে কখনও জেলে গিয়েছেন কিনা, জবাবে হেসে ইমরান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন হয়তো সেই সুযোগ হয়েই যাবে!
এর আগে, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন ইমরান। স্পষ্টভাবে অভিনেতা জানান, কোনো নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে তিনি সেখানে যাননি। মুম্বাইয়ের একজন নাগরিক হিসেবেই নিজের অবস্থান থেকে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
ইমরান বলেন, ‘আমার কোনো দাবি নেই। আমি এই শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে এখানে এসেছি। কেন মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার সীমিত করা হচ্ছে, কেন মানুষের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে, তা দেখতে চাই।’
কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র নেই বলেও জানান অভিনেতা। ভারতের সচেতন নাগরিক হিসেবেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
এদিকে, মুম্বাই পুলিশের দাবি, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে সিজেপি’র সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি চাওয়া হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান হলো আজাদ ময়দান। সেই কারণে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব ছিল না।
মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শনিবার ওই বিক্ষোভকে ঘিরে ৪০০শ’র বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
যদিও সিজেপি’র নেতাকর্মীদের দাবি, তাঁরা বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে মুম্বাই পুলিশকে ই-মেইল করেছিলেন। কিন্তু কোনো উত্তর পাননি তাঁরা।
বিক্ষোভকে ঘিরে পুলিশের এই পদক্ষেপের মধ্যেই ইমরান খানের আটকের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে অভিনেতা জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং নাগরিক অধিকার এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার প্রশ্নেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস