আজ সবাই শতকোটির বক্স অফিস দিয়ে মাপতে চান সিনেমার ব্যবসা। এখন ১০০ কোটি ছবিও হয়ে যায় ফ্লপ। কিন্তু আশির দশকে শতকোটির ক্লাবে পা দেওয়াটাই ছিল বিরাট ব্যাপার।
বর্তমানে বলা হচ্ছে বাণিজ্যিক হিন্দি ছবির পুনরুজ্জীবন ঘটেছে ‘গাদার ২’র হাত ধরে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মত এমনটাই। সানি দেওলের ‘ঢাই কিলো’র হাতের জাদুতে বুঁদ গোটা ভারত। ৪০০ কোটির ক্লাবে ছুটছে ছবিটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানাচ্ছে, সত্তর-আশি, এমনকি নব্বইয়ের দশকেও কোনও ছবি কতদিন হলে টিকলো—সেটাই ছিল তার সাফল্যের মানদণ্ড। সে হিসাবে ‘শোলে’ আজও ভারতের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার ছবি।
১৯৭৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল জয়-বীরুর এই গল্প। ৪৮ বছর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবি সেইসময় দাঁড়িয়ে ব্যবসা করেছিল ৩৫ কোটি টাকার, যা এক কথায় অকল্পনীয়। রমেশ সিপ্পি পরিচালিত ‘শোলে’ ছবিতে লিড রোলে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, হেমা মালিনী, জয়া বচ্চন, আমজাদ খান, সঞ্জীব কুমার। জয়-বীরুর দোস্তি, বাসন্তীর মস্তি, রাধার সারল্য, দু-হাত কাটা ঠাকুর আর জাঁদরেল খলনায়ক গব্বর, এন্টারটেনমেন্টের সব মশলা মজুত রয়েছে ‘শোলে’তে! সেলিম-জাভেদের লেখনি অন্যমাত্রা দিয়েছিল এই ছবিকে।
দর্শক আসন ভরানোর মামলায় শোলেই এক নম্বর ভারতীয় ছবি, এমনটা দাবি করা হয় একাধিক রিপোর্টে। বলা হয়, বিশ্বজুড়ে মোট ২৫ কোটি টিকিট বিক্রি হয়েছিল শোলের, সেই সুবাদেই ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হিট এই ছবি। টাকার অংকের মামলায় ‘শোলে’ মুক্তির পর এক দশক পর্যন্ত কোনও ছবি ৩৫ কোটির ফিগার ছুঁতে পারেনি।
দেখুন শোলে:
সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, মুক্তির পর একটানা পাঁচ বছর সিনেমাহলে টিকে ছিল ‘শোলে’। সেই সময় সিনেমা হলে টিকিটের দাম ছিল ২ থেকে আড়াই টাকা। সিনেমাটির বাজেট ছিল ৩ কোটির আশেপাশে। ফিল্ম সমালোচক অনুপমা চোপড়ার লেখা বই ‘শোলে-দ্য মেকিং অফ এ ক্লাসিক’ জানাচ্ছে মুক্তির পর ৩৫ কোটির ব্যবসা করেছিল ‘শোলে’। যদিও পরিচালক রমেশ সিপ্পি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ছবির আয় ছিল ২৫ কোটি টাকা।