সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন শোবিজের বেশ ক’জন। ভোটের মাঠে ছিলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, গায়িকা ডলি সায়ন্তনী, গায়ক নকুল কুমার বিশ্বাস ও কমেডিয়ান কমর উদ্দিন আরমান। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে নির্বাচনের ফলাফল। জেনে নেওয়া যাক ভোটের মাঠে তারকারা কতটা জ্বলতে পেরেছেন?
ঢাকা-১০ আসনে নৌকা প্রতীকে লড়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। ভোট নিয়ে খুব টেনশনে ছিলেন, প্রচার-প্রচারণায় এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। তবে জয়ের ব্যাপারেও ছিলেন আশাবাদী। এরইমধ্যে ফলাফল প্রকাশিত। বিজয় এসেছে এই চিত্রতারকার ঘরে। ঢাকা-১০ আসনে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৩৯ ভোটারের মধ্যে তাঁকে ভোট দিয়েছেন ৬৫ হাজার ৮৯৮ জন।প্রথম ভোটটি দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে, নির্বাচনে ফেরদৌসের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে হাজি মো. শাহজাহান পেয়েছেন ২২ হাজার ৫৭ ভোট। দুজনের ব্যবধান ছিল ৪৩ হাজার ৮৪১ ভোট।
বরাবরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি হয়েছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ। তবে আলো জ্বালাতে পারলেন না এই তারকা। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর কাছে হেরে গেলেন তিনি। ১৯৩টি কেন্দ্রে ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী টুলু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫২৫ ভোট। আর নৌকা প্রতীকে মমতাজ পেয়েছেন ৭৮ হাজার ২৬৯ ভোট।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। রাজশাহী-১ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র হিসেবে ছিলেন ভোটের মাঠে। কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি এই তারকা। ১৫৮টি কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মাত্র ৯ হাজার ৯টি ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ মনোনীত ওমর ফারুক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ভোট।
এদিকে, প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন গায়িকা ডলি সায়ন্তনী। পাবনা- ২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রার্থী ছিলেন তিনি। তবে ভোটের দিন নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন তিনি।
মাদারীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ছিলেন নকুল কুমার বিশ্বাস। তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে গামছা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগমের কাছে বড় ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছেন। নির্বাচনে নকুল কুমার বিশ্বাস পেয়েছেন মাত্র ২৬৩ ভোট। আর বিজয়ী প্রার্থী তাহমিনা বেগম পেয়েছেন ৯৬,৩৩৩ ভোট।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ‘মীরাক্কেল’খ্যাত স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান কমর উদ্দিন আরমান। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া) আসনে কলার ছড়ি মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন তিনি। তবে জেতার কোন সম্ভাবনাই তৈরি করতে পারেননি। এই আসনে ৮১ হাজার ৯৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম (হাতঘড়ি)।