রাজনীতিতে পা রেখেই তামিলনাড়ুতে বাজিমাত করলেন সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। সব ঠিক থাকলে তিনিই হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সবচেয়ে বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে তাঁর দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। ভোটের মাঠে দলটি ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় এককভাবে সরকার গঠনের ম্যাজিক সংখ্যা ১১৮। এই পরিস্থিতিতে বেশকিছু সমীকরণের সামনে বিজয়ের দল।
ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সরকার গঠনে টিভিকে’র প্রয়োজন হতে পারে রাজনৈতিক জোট। ইতিমধ্যে তামিলনাড়ুতে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সরকার গঠনে দলটিকে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেস।
সূত্রের বরাতে ফ্রি প্রেস জার্নাল জানিয়েছে, রাজ্যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনে টিভিকে নেতা বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ু কংগ্রেস। মঙ্গলবার (৫ মে) গভীর রাতে রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির (পিএসি) এক জরুরি বৈঠকে টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল বলেন, ‘আইএনসি (ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তামিলনাড়ুতে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষেই রায় এসেছে, যে সরকার সংবিধানকে অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইএনসি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, বিজেপি ও তার সহচরদের কোনোভাবেই তামিলনাড়ুতে সরকার চালাতে দেওয়া হবে না।’
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে ৫টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৫ মে) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন চেয়ে কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছেন বিজয়। এবার কংগ্রেস তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেস সরকারে যোগ দিলে দুটি মন্ত্রী এবং কয়েকটি সরকারি বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ চাইতে পারে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চলচ্চিত্রাঙ্গন ছেড়ে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন থালাপতি বিজয়। গঠন করেন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠনের প্রস্তুতি চললেও শুরুতে তিনি আলাদা পথই বেছে নেন। কোনো বড় দলের সঙ্গে জোট না করে সরাসরি জনতার সামনে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে মন দেন। লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেননি, কারণ মূল লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ। অবশেষে সিনেপর্দার মতো বাস্তবেও জনতার রায় পড়ে এই দক্ষিণী তারকার বক্সে।