এশীয় চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ প্রযোজক

মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবের আ সার্তে রিগা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল বাংলাদেশি সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের এ সিনেমার প্রযোজক সিঙ্গাপুরের জেরেমি চুয়া। সেজন্য ঢাকাই চলচ্চিত্রেও বেশ পরিচিত মুখ তিনি। শুধু ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ই নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসিত আরও কিছু এশীয় চলচ্চিত্রে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন চুয়া। এবার পেলেন তারই স্বীকৃতি। এশিয়া প্যাসিফিক সিনেমায় অনন্য অবদানের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম প্রডিউসারস এসোসিয়েশন (এফআইএপিএফ) সম্মাননা পেলেন এই ‌প্রযোজক।

এফআইএপিএফ’র মতে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে অনবদ্য অবদান রাখায় এ বছর জেরেমি চুয়ার কর্মজীবনকে উদযাপন করবে তাঁরা।

অতীতে এই সম্মাননায় ভূষিত হওয়া তালিকায় নিজেকে দেখে ভীষণ সম্মানবোধ করছেন চুয়াও। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ইফ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‌‘ভবিষ্যৎ মানবতার স্বার্থে জরুরি সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার মাধ্যম হিসেবে আজকের বিশ্বে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। যদিও দিন দিন দর্শক তৈরি ও তাঁদের কাছে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

কান চলচ্চিত্র উৎসবে সাদ-বাঁধনদের সঙ্গে জেরেমি চুয়া (ডানে), ছবি: সংগৃহীত

যোগ করে এই প্রযোজক আরও বলেন, ‘জনসচেতনতার মূল্যবান কণ্ঠস্বরকে বাঁচিয়ে রাখতে আমি আমার পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে যাব, সেটাই লক্ষ্য। আমাকে অপরিসীম সমর্থন ও বন্ধুত্বের জন্য এফআইএপিএফ, আমার পরামর্শদাতা ও সহকর্মীদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’

এদিকে, জেরেমি চুয়ার এফআইএপিএফ সম্মাননা পাওয়ার খবরটি ফেসবুকে শেয়ার করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।  

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পোটোকল’ গড়ে তুলেন জেরেমি চুয়া, যা এশীয়া অঞ্চলের গল্প বলতে নতুন-পুরোনো প্রতিভাবান পরিচালকদের সিনেমা নির্মাণে কাজ করছে। বিগত ১৩ মাসে ‘টুমোরো ইজ আ লং টাইম’, ‘অটোবায়োগ্রাফি’, ‘আ ইয়েলো বার্ড’ ও ‘দোই বয়’ নামে চারটি সিনেমার প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রগুলো ভেনিস, বার্লিন, কান ও সান সেবাস্তিয়ান উৎসবে প্রদর্শিত হয়।

আগামী ৩ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড। সেখানেই এ সম্মাননা ওঠবে জেরেমি চুয়ার হাতে।