জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চারদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি চিত্রনায়িকা পরী মণি। মধ্যে তিনি ‘ডোডোর গল্প’ নামে একটি সিনেমার কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরমধ্যেই অসুস্থতা ঝেঁকে বসে। ছেলে রাজ্যকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে যেতে হয় হাসপাতালে। সেখান থেকে সুবিধাবাদী মানুষদের ওপর ক্ষোভ ঝারলেন এ নায়িকা।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে পরী মণি বললেন, ‘জীবনে আজাইরা, ফাও এবং সুবিধাবাদীদের যত ঝেড়ে ফেলা যায় জীবন কেবল মাত্র তখনই সুন্দর।’
তাঁর কথাগুলো শুরু হয় সুস্থতা সৃষ্টিকর্তার কত বড় নেয়ামত সেই প্রসঙ্গ টেনে। পরী বলেন, ‘‘সুস্থ থাকার মতো বড় নেয়ামত আর কিছু নাই সত্যিই! তবে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো অসুখ বা বিপদ না আসলে জীবনের আসল শুভাকাঙ্ক্ষী বা কাছের মানুষ চিনতে পারবেন না। একটা সময় অনেকের মতো আমারও মনে হইতো কারোর কাছে আমার কোনো এক্সপেক্টেশন নাই বা সেটা রাখার দরকারও নাই। ‘এক্সপেক্টেশন যত কম জীবন তত সুন্দর’ বিশ্বাস করেন এই কথাটা একটা বেহুদা কথা। আপনার আত্মীয়-স্বজনদের আপনি নিশ্চয়ই আপনার খারাপ সময়ে পাশে চাইবেন। অন্তত কেমন আছো জিজ্ঞেস করুক এতটুকুই অনেক কিছু মিন করে কখনো কখনো জীবনে।’’

এদিকে, পরী মণির জীবনকাহিনি যেন সিনেমাকেও হার মানায়! প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ, কারাগারে বন্দি—সব মিলিয়ে প্রায়ই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এ চিত্রনায়িকা। তাই কিনা বললেন, ‘‘আমি মোটেও সেলফিশ (স্বার্থপর) ধরনের মানুষ না। তবে গত দুই এক বছর যাবৎ আমি ‘যে যেমন আমি তেমন’ লোক হওয়ার চেষ্টা করছি। এই চেষ্টায় এবারের দৌড়টা বেশ লম্বাই হইলো বলা যায়। জীবনে আজাইরা, ফাও এবং সুবিধাবাদীদের যত ঝেরে ফেলা যায় জীবন কেবল মাত্র তখনই সুন্দর।’’
শেষে পরী মণি বলেন, ‘আমি আমার স্টাফদের যত্ন, ভালোবাসা, আন্তরিকতার কাছে ঋণী। এরাই আমার পরিবার। অ্যান্টিবায়োটিকটা ভালোই কাজ করছে মনে হচ্ছে!’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘গুণিন’ সিনেমার সেটে শরিফুল রাজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান পরী মণি। তার ক’দিন পরই ঘরোয়া আয়োজনে দুজনে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে পুত্রসন্তান শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য। কিন্তু সংসার টেকেনি। সম্প্রতি শরিফুল রাজকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন পরী মণি।


সব মিলিয়ে অন্যরকম একটা সময় পার করছি: পরী মণি
রাজকে ডিভোর্স লেটার পাঠালেন পরী মণি
