আসন্ন ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সিনেমা ‘তুফান’। সম্প্রতি এটি সেন্সর বোর্ডের অনাপত্তি সনদও পেয়েছে। তবে এই সিনেমার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ‘প্রিয়তমা’র প্রযোজক আরশাদ আদনান। তাঁর দাবি, তুফান নির্মাণের মাধ্যমে ভারতে অবৈধভাবে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে!
মঙ্গলবার (০৪ জুন) বিকেলে চলচ্চিত্রের ১৯ সংগঠনের উদ্যোগে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে এক আলোচনা সভায় এই অভিযোগ সামনে আনেন ভার্সেটাইল মিডিয়ার কর্ণধার আরশাদ আদনান।
তিনি বললেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি এই সিনেমার (তুফান) বাজেট ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। এত টাকা আপনি ভারতে নিয়েছেন কীভাবে? আপনি কি এনবিআরের ছাড়পত্র নিয়েছেন? আর নিলেও কত টাকার ছাড়পত্র নিয়েছেন? আমি একজন সাধারণ প্রযোজক হিসেবে জানতে চাই—এভাবেও কি বিদেশে টাকা নেওয়া সম্ভব?’
এই প্রযোজকের মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ৬০-৭০ লাখ টাকা দেখিয়ে খরচ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। আরশাদ আদনানের ভাষ্য, ‘৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকা এনবিআরকে দেখিয়ে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার সিনেমা বানাল। এই শুভঙ্করের চালটা কী, আলাদিনের চেরাগ কী করে পেল আমি তো বুঝি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে কাজ করার নিয়মনীতি তো আছে। আমিও আমেরিকাতে শুটিং করেছি। বৈধ টাকা নিয়ে সবকিছু ক্লিয়ার করে কাজ করেছি। আসলে সৎ থাকার ইচ্ছে থাকতে হয়! সর্বোপরি দেশকে না ঠকানোর ইচ্ছে থাকতে হয়। দেশকে কেন ঠকাবে? দেশের যেটা প্রাপ্য, সেটা দিই না কেন দেশকে?’
প্রশ্ন রেখে এই প্রযোজক বললেন, ‘শাকিব খান ও চঞ্চল চৌধুরীর পারিশ্রমিক দেশে দেওয়া হয়েছে। আড়াই পার্সেন্ট হারে টাকা দিয়ে তিন শিফটে কাজ করে ৬০ লাখ টাকা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গিয়ে সেখানে শুটিং করা কীভাবে সম্ভব, তা আমার জানা নেই। আমিও তো ৪-৫টি বাংলা চলচ্চিত্র বানিয়েছি। সেটা কীভাবে সম্ভব?’
তবে এই অভিযোগ নিয়ে ‘তুফান’ সংশ্লিষ্টদের কেউই এখন পর্যন্ত মুখ খুলেননি কিংবা দাপ্তরিক কোনো বিবৃতিও দেয়নি। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল থেকে পরিচালক রায়হান রাফীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। যা বলার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই বলবে।’
একই সুরে কথা বলেছেন সিনেমাটির আরেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকির সিইও ও নির্মাতা রেদওয়ান রনিও। তিনি বললেন, ‘অভিযোগ তো যে কারও নামেই উঠতে পারে, কিন্তু দেখার বিষয় সেই অভিযোগ সত্য কি-না? এ ব্যাপারে আলফা আই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। তবে একটা সিনেমা যখন সেন্সর ছাড়পত্র পায়, তখন সবকিছু ঠিক আছে কি-না সেটা দেখেই সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’
এরপর আরশাদ আদনানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলফা আইয়ের ভাষ্য জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার শাহরিয়ার শাকিলের সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, তুফান ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই স্টুডিওস লিমিটেড। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে রয়েছে চরকি এবং ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর ভারতের এসভিএফ।
অ্যাকশন ধাঁচের এই ছবিতে নব্বই দশকের একজন গ্যাংস্টার রূপে দেখা যাবে শাকিব খানকে। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন ঢাকার মাসুমা রহমান নাবিলা ও কলকাতার মিমি চক্রবর্তী। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী, মিশা সওদাগরসহ অনেকে।